ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে শিলা বৃষ্টিতে অমর একুশে গ্রন্থমেলার ভেতরে পানি জমা ও বিভিন্ন স্টল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২৪তম দিনে বুধবার মেলার ফটক খুলেছে নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা পর। বিকাল সাড়ে ৫টায় মেলার ফটক খুলে দেয়া হয়েছে।
এর আগে বিকাল তিনটার দিকে মেলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিলেন বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বুধবার দুপুরে হঠাত্ শিলাবৃষ্টিতে যথাসময়ে মেলা চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রথম দফা বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি নিষ্কাষণ করার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু দ্বিতীয় দফার বৃষ্টিতে বুধবার মেলা চালু করতে পারব কিনা তা বলছে পারছিনা।’
বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে জালাল আহমেদ বলেন, ‘মেলা প্রাঙ্গণে ক্ষতি কিছু হয়েছে। তবে আমরা মেলা চালু করে দিয়েছি।’
প্রতিদিনই মেলার দ্বার উন্মুক্ত হওয়ার আগ থেকে ফটকে দর্শনার্থীদের জটলা থাকে। এদিনও তার ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। মেলায় ঢুকতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেক বইপ্রেমীকে। ফটক খোলার পর তারা কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে সারিবদ্ধভাবে ঢোকেন আগের মতো।
পূবালী লঘুচাপের প্রভাবে বুধবার ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদফতর আগেই দিয়ে রেখেছিল। সকাল থেকে তপ্ত রোদের পর মাঝ দুপুরে আঁঁধার ঘনায় রাজধানীতে।
ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে উড়তে থাকে ধুলা, ঝরা পাতা। আলো কমে আসায় জ্বলে ওঠে গাড়ির হেডলাইট। মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়।
বৃষ্টির পর সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টিতে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের ভেতর এবং মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে দর্শনার্থীদের হাঁটাপথের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে রয়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় উদ্যান অংশের অনেকগুলো স্টল ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা যায়। স্বাধীনতা স্তম্ভের দিকটার অংশের একটি একটি বেষ্টনী ভেঙে গেছে।
উদ্যান অংশের কালি মন্দিরের সামনে পানি জমেছে বেশি, সেখানে পানি সেচ দেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চের সামনেও একই কাজে ব্যস্ত ছিলেন তারা।
মেলাঙ্গন ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির ঝাপটায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের বেশিরভাগ স্টলেই কিছু না কিছু বই ভিজে গেছে। কারও কারও ক্ষতির মাত্রার ছিল অনেক বেশি।
অনন্যা প্রকাশনীর মালিক মনিরুল হক বলেন, ‘আমাদের প্যাভিলিয়ন এমনভাবে সাজানো বেশিরভাগ বই-ই ডিসপ্লে করা থাকে। এ কারণে ক্ষতির পরিমাণ দুই লাখ টাকার কম নয়।’
