বায়ার্নকে হারিয়ে হূত গৌরবের পথে লিভারপুল

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ২১:৪৭

গেলবারের ফাইনালিস্ট লিভারপুল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্নকে তাদেরই মাটিতে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে। এমন জয়কে দলের ইউরোপীয় শক্তি হয়ে ওঠার পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ।

বায়ার্নের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় গত বুধবার রাতে সাদিও মানের লক্ষ্যভেদে এগিয়ে গিয়েছিল লিভারপুল। কিন্তু জোয়েল ম্যাতিপের আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ভার্জিল ফন ডাইক ও মানের দ্বিতীয় গোলে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্লপের দল।

কোচ ক্লপের অধীনে গেল মৌসুমে দশ বছর পর আবারো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলেছিল লিভারপুল। সেবার রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে চূড়ান্ত হাসি হাসতে ব্যর্থ হলেও এবার ইউরোপীয় পরিবেশে দারুণ ছন্দে আছে ক্লপের দল।

জার্মান এই কোচের বিশ্বাস ইউরোপে হারানো গৌরব ফিরে পেতে বড় পদক্ষেপই নিয়েছে তার দল। ক্লপের ভাষায়, ‘আমরা আবারো এই অসাধারণ ক্লাবটার জন্য একটা মাইলফলক তৈরি করলাম। আমরা আবারো আন্তর্জাতিকভাবে সেরা দলগুলোর কাতারে চলে এসেছি।’

দারুণ জয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে থাকা ক্লপ ম্যাতিপের আত্মঘাতী গোলটি নিয়ে কিছুটা কৌতুকও করে বসেন। তিনি বলেন, ‘এখানে তিন গোল করা চাট্টিখানি কথা নয়। মূলত চারটা গোল করেছি আমরা কারণ অন্য গোলটিও আমরাই করেছিলাম। আমাদের জন্য এটা অনেক বড় একটা পদক্ষেপ। আমরা দেখব এর মাধ্যমে আমরা কী করতে পারি কিন্তু এটা দারুণ এক ইঙ্গিত। এটা বেশ ভালো লেগেছে আমার।’ ক্লপ আরও বলেন, ‘আমাদের ক্লাবের অবস্থানটা কোথায় তা আমরা জানি এবং আজ রাতে আমরা অন্তত অল্প হলেও তা প্রমাণও করেছি। ম্যাচের ফলাফলে আমি সত্যিই অনেক খুশি। আমি জানতাম আমাদের সুযোগ আছে এবং ছেলেরা তা ঘটিয়ে দেখিয়েছে।’ 

বায়ার্নকে টপকে সর্বশেষ কোনো ক্লাবের বুন্দেসলিগা জয়ের কৃতিত্ব ক্লপেরই। ২০১০ থেকে ’১২ পর্যন্ত টানা দুই মৌসুমে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে লিগ জেতানোর পর অবশ্য আর কোনো শিরোপা জিততে পারেননি ক্লপ। তবে চিরচেনা প্রতিপক্ষের মাঠে এই জয়কে কোনো প্রকারের প্রতিশোধ হিসেবে দেখতে নারাজ লিভারপুল কোচ। তার ভাষায়, ‘আমি এমন নই। প্রতিপক্ষ বায়ার্ন বলে জয়টা মধুর হয়ে যায়নি। এর ফলে অতীতের কোনো দ্বৈরথের কথা মনে হয়ে যায়নি আমার। আমি লিভারপুলের জন্য জিততে চাইছিলাম, বায়ার্নকে হারাতে নয়। এটা আমার জন্য বাড়তি কিছু বয়ে আনে না। লিভারপুলের জন্য এটা বেশ ভালো একটা মুহূর্ত, তাই একে কেবল উপভোগই করতে পারি আমরা।’