মেসি নৈপুণ্যে শেষ আটে বার্সা

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ২১:৪৭

লিওনেল মেসির দুর্দান্ত নৈপুণ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে উঠে গেছে শিরোপা প্রত্যাশী বার্সেলোনা। শেষ ষোলর লড়াইয়ে গত বুধবার স্পানিশ ক্লাবটি নিজ মাঠে অলিম্পিক লিওঁকে ৫-১ গোলে হারায়। দু’দলের আগের খেলাটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।

বার্সেলোনা এই রাতে মেসির পেনাল্টি ও ফেলিপে কোটিনহোর লক্ষ্যভেদে দুই গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে। কিন্তু ৫৭তম মিনিটে রক্ষণের ভুলে সফরকারী মিডফিল্ডার লুকাস তুসার্তের লক্ষ্যভেদের পর কিছুটা বিপাকেই পড়ে গিয়েছিল বার্সা। আরেকটা গোল হজম করলেই যে ‘অ্যাওয়ে গোল’ নিয়মের কাঁটাতারে আটকে যেতো তাদের ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের স্বপ্ন!

চাপে পড়ে কিছুটা অগোছালো হয়ে যাওয়া বার্সেলোনাকে শেষমেশ উদ্ধার করেন মেসি। ৭৭ মিনিটে একক নৈপুণ্যে লিওঁ রক্ষণকে বোকা বানিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করলে হালে পানি পায় আর্নেস্তো ভালভার্দের দল। এরপর মরিয়া লিওঁকে প্রতি-আক্রমণে ধরাশায়ী করে আরও দুই গোল আদায় করে নেয় বার্সা।

আর্জেন্টাইন তারকার জোগানে গোল দু’টি আসে জেরার্ড পিকে ও উসমান দেম্বেলের পা থেকে। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠে অজেয় যাত্রাটাকে ৩০ ম্যাচে উন্নীত করে রেকর্ড টানা ১২তম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।

আগের দিনই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দারুণ এক হ্যাটট্রিকে দুই গোলে পিছিয়ে থাকা জুভেন্তাসকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে দিয়েছিলেন। চির প্রতিদ্বন্দ্বীর এমন নৈপুণ্যই হয়তো মেসির দুরন্তপনায় রসদ জুগিয়েছিল। তাই ম্যাচশেষে রিপোর্টারদের মুখোমুখি হয়েও পর্তুগিজ তারকার প্রসঙ্গই চলে এলো মেসির বক্তব্যে। মেসি বলেন, ‘গতকাল রোনালদো আর জুভেন্তাস আমাকে বিমোহিত করেছিল। আমি ভেবেছিলাম অ্যাটলেটিকো অনেক শক্তিশালী হবে কিন্তু তিন গোল করে রোনালদো জাদুকরী একটি রাত কাটায়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এমন অনেক ব্যাপার আছে যা আমি বেশ পছন্দ করি।’

বার্সা অধিনায়ক দ্বিতীয়ার্ধে কর্নার থেকে লিওঁর ব্যবধান কমানোর ব্যাপারেও সরল স্বীকারোক্তি দেন। তিনি বলেন, ‘সেটপিসে নিজেদের কাজটা কঠিন করে ফেলেছিলাম আমরা। আমরা কিছু সময়ের জন্য ভোগান্তির শিকার হলেও ৩-১ হয়ে যাবার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এসেছিলো।’

নিজেদের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শনে শান্ত থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। মেসির ভাষায়, ‘আমরা শুরু থেকেই এর সন্ধানে ছিলাম। যখন গোলটা পেয়ে গেলাম তখন শান্তভাবে আমরা বলের দখল নিচ্ছিলাম এবং সামনে বাড়াচ্ছিলাম এবং সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শনে সক্ষম হয়েছিলাম।’

মৌসুমের শুরুতেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের একরকম ঘোষণাই দিয়েছিলেন মেসি। দলে শেষ আট নিশ্চিত করার পর কোচের প্রশংসায়ও ভাসলেন এই আর্জেন্টাইন। ভালভার্দে বলেন, ‘আমরা এই প্রতিযোগিতার জন্য বেশ মনোযোগী, মেসি নিজেও। সে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ উপহার দিয়েছে।’

ভালভার্দে আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধে লিওঁ আরও বেশি ঝুঁকি নিচ্ছিলো। ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যে আমাদের চাপে রেখেছিল তারা এবং পেয়েও গিয়েছিল। কিন্তু আক্রমণে থাকা খেলোয়াড়রা আমাদের সে সমস্যার সমাধান এনে দিয়েছিল।’

লিঁও মিডফিল্ডার নাবিল ফেকির ম্যাচের আগে মেসিকে রুখে দেয়ার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছিলেন। শেষমেশ তার কাছেই ধরাশায়ী হওয়ায় ম্যাচশেষে মেসি-স্তুতি ঝরে পড়লো দলটির কোচ ব্রুনো গেনেসিওর কণ্ঠে। তার ভাষায়, ‘এই মানের প্রেরণাদায়ী নৈপুণ্যকে আটকে রাখা প্রায় অসম্ভবই।’