বেপরোয়া দখল-ভরাটে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে বুড়িগঙ্গার উত্সমুখ। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার শরীফ জামিল, বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন ও বাপার বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস।
শরীফ জামিল বলেন, ধলেশ্বরী থেকে আসা আদি বুড়িগঙ্গা বসিলা পর্যন্ত সমগ্র অংশেই কোনো না কোনোভাবে দখল প্রক্রিয়া চলমান। যার মধ্যে চুনারচর, ভাড়ালিয়া পাড়া, মুগড়াকান্দা, উত্তর বাহেরচর এলাকা, টোটালিয়া পাড়া, চর ওয়াসপুর এলাকায় বড় আকারের দখল লক্ষ করা যায়।
তিনি বলেন, আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানকে প্রধান করে দ্বিতীয় চ্যানেল পুনরুদ্ধারের জন্য কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু এই কমিটির কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখতে পাইনি।
তিনি আরও বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীকে অস্তিত্বের হুমকি থেকে রক্ষার জন্য এর উত্সমুখ ও দ্বিতীয় চ্যানেলসহ বুড়িগঙ্গায় যে কোনো ভরাট ও নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে হবে এবং নদীর সীমানা যথাযথভাবে চিহ্নিত করে স্থাপনা উচ্ছেদ করে বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানোর পদক্ষেপ অবিলম্বে গ্রহণ করতে হবে।
ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, আমাদের প্রিয় ঢাকা মহানগরীর মূল জীবনী শক্তি, পরিষ্কার পানির স্রোতধারা, আমাদের প্রাণপ্রিয় বুড়িগঙ্গা আজ ধ্বংসের মুখে। বুড়িগঙ্গা রক্ষার জন্য আমরা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমাদের দাবির মুখে সরকার বিভিন্ন সময় বুড়িগঙ্গা রক্ষায় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও মাঝ পথেই তা থেমে যায়। কার্যকর সুফল আমরা দেখতে পাইনি। দখল-দূষণ বন্ধ করে এবং নির্মোহভাবে দখল উচ্ছেদ করে, বুড়িগঙ্গা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
মিহির বিশ্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশ ও নদী রক্ষায় অত্যন্ত সচেতন ও আন্তরিক। আমরা আশা করি বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করে তিনি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। আমরা কারও পক্ষে বা বিপক্ষে নই, আমরা নদীর পক্ষে— পরিবেশের পক্ষে।
