আগামী বছর থেকে বইমেলা রাত নয়টা পর্যন্ত চালু রাখা হোক : মাজহারুল ইসলাম

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০১:১৯
অন্যপ্রকাশ দেশের স্বনামধন্য একটি প্রকাশনী। জনপ্রিয় ও মননশীল লেখকদের গ্রন্থ প্রকাশ করায় বইমেলায় এ প্রকাশনীর স্টলে ভিড় দেখা যায়। হুমায়ূন আহমেদের গ্রন্থের অন্যতম প্রকাশক হিসাবেও রয়েছে এ প্রকাশনীর বিশেষ পরিচিতি। অন্যপ্রকাশের প্রকাশক মাজহারুল   ইসলাম বললেন, এবছর তো মেলা প্রায় শেষের পথে, আয়োজকদের শুধু এটুকু বলব, মেলার স্টল বিন্যাসের দিকে নজর দিতে হবে আর মেলার সময় বৃদ্ধি করা দরকার।
 
তিনি বলেন, আগে সাড়ে আটটায় বন্ধ করে দেয়া হতো মেলা। এর আগে নয়টা পর্যন্ত মেলা চলত। এখন নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আটটায় বন্ধ করা হচ্ছে। এ সময়সীমা মেনে অনেকে আসতে পারছেন না। যারা অফিস করেন তারা অফিস শেষ করে মেলায় আসতে আসতে মেলা বন্ধ করার সময় হয়ে যায়। দিনের বেলা সময় বাড়িয়ে কোন লাভ হয় না। অফিস শেষ করে পরিবারের সঙ্গেই মানুষ বই কিনতে আসেন। আর নিরাপত্তার কারণটা খুব বড় কোন কারণ হতে পারে না। যদি বাংলা একাডেমি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তবে ভালো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নেয়া যেতে পারে। বাণিজ্য মেলা সারাদিন খোলা থাকে, রাত দশটা পর্যন্ত চলে। সেখানে যদি নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব হয় বইমেলাতেও সম্ভব।
 
তিনি বলেন, বইমেলার স্টল বিন্যাস নিয়ে ভাবা দরকার। যারা এ ধরনের ইভেন্ট করে থাকেন প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ডিজাইনারদের সঙ্গে নিয়ে এর বিন্যাস করা জরুরি। স্টল বিন্যাসে গুচ্ছ ব্যবস্থাটা সবার কাছে সমানভাবে কার্যকর না হওয়ায় অনেকের বই বিক্রি মার খেয়েছে। অনেক প্রকাশক শুধু বইমেলার বিক্রির দিকে তাকিয়ে থাকেন, এই স্টল বিন্যাস তাদের ক্ষতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
 
মাজহারুল ইসলাম বলেন, মেলায় এবার চারশ’র বেশি প্রকাশক অংশ নিয়েছে। এত প্রকাশ কোথা থেকে এলো! যারা সত্যিকার অর্থেই প্রকাশক শুধু তাদের নিয়ে যদি মেলা পরিচালনা করা হতো তাহলে এত সমস্যাই থাকতো না। কারণ এসব ভুইফোঁড় প্রকাশকরাই বাজে বই, পাইরেটেড বই, ভুলে ভরা বই প্রকাশ করে। সুতরাং প্রকাশনাকে যদি আমরা একটা মানে নিয়ে যেতে চাই তবে বাজে প্রকাশকদের ব্যাপারে কঠোর হতে হবে বইমেলা আয়োজক কমিটিকে।
 
এ বছর অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হুমায়ূন আহমেদের দুর্লভ ছবির অ্যালবাম ‘অনন্ত জীবন যদি’। এর ছবি তুলেছেন নাসির আলী মামুন। রয়েছে হরিশংকর জলদাসের উপন্যাস ‘একলব্য’, নাসরীন জাহানের উপন্যাস ‘নিঃসঙ্গতার পাহারাদার’, ইমদাদুল হক মিলনের ‘সেরা দশ গল্প’, সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল শওকত আলীর গণপরিষদ থেকে নবম জাতীয় সংসদ প্রভৃতি।