কিডনি দিবসের আলোচনায় বক্তারা

অসচেতনতা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য কিডনি রোগী বাড়ার কারণ

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ২২:২১

বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। দেশে কিডনি রোগী বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মানুষের অলস জীবন-যাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ধূমপান, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, বায়ু, পানি-খাদ্যদূষণ ও অসচেতনাকে দায়ী করেছেন বক্তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে বিএসএমএমইউতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন, কিডনি ফাউন্ডেশন ও ক্যাম্পস যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। ‘সুস্থ কিডনি, সবার জন্য-সর্বত্র’ প্রতিপাদ্য নিয়ে নানা আয়োজনে গতকাল ১৪তম বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার রোগী দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি।  তিনি আরো বলেন, কিডনি বিকল হয়ে গেলে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া বাঁচার কোনো উপায় থাকে না। আর এ দুটি পদ্ধতি খুবই ব্যয়বহুল। ফলে শতকরা প্রায় ৮০ জন রোগী কিছুদিনের মধ্যে মৃত্যুবরণ করে। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে রোগ প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ খুবই জরুরি। পাশাপাশি মানসম্মত ডায়ালাইসিস সেবা প্রদান এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে।

কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, জীবিত মানুষের কাছে কিডনি পাওয়া খুবই দুষ্কর। এর বিকল্প হিসেবে মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কিডনি সংগ্রহ করা যেতে পারে। কিন্তু ধর্মীয় অনুশাসন ও মানসিকতা পরিবর্তন না হওয়ার কারণে এই কিডনি সংগ্রহ করারও বেশ জটিল। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে চাই সচেতনতা, প্রচার এবং মন-মানসিকতার পরিবর্তন।

স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে কিডনি হাসপাতাল ও চিকিত্সকের সংখ্যা এখনো অপ্রতুল। অথচ প্রতি বছর রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠানে কিডনি সেবা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে চিকিত্সা সেবা আধুনিকায়নসহ আরও নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান চালু করা হবে।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. মো. নজরুল ইসলামের সভাপত্বিতে আরও বক্তব্য রাখেন ক্যাম্পস সভাপতি অধ্যাপক এম এ সামাদ, কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আর রশিদ, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের মহাসচিব (স্বাচিপ) অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. মো. ইসতেশামুল হক চৌধুরী, স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সনাল, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখ।