বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের জয়ী ইউপিতে পুনঃতফসিল চায় বিএনপি

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৬, ১৮:২১
সরকারি দলের বাধায় বিএনপির ১১৪ চেয়ারম্যান প্রার্থী আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করে দলটি বলেছে, এই ১১৪টি ইউনিয়নে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। তাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যেসব জায়গায় একক প্রার্থী রয়েছে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে সেসব জায়গায় নির্বাচন দিতে হবে। এটা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রমাণের একটি সুযোগ। এই কথা বলেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।
 
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
 
‘জতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন এ সভার আয়োজন করে।
 
বিগত একশ বছরের মধ্যে কখনোই নির্বাচন ছাড়া কোনো ইউপি চেয়ারম্যান হননি উল্লেখ করে আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন,আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও সন্ত্রাসীদের বাধায় বিএনপির দেড় শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে তারা মনোনয়নপত্র কেড়ে নিয়ে গেছে। সুতরাং সেখানে নতুন করে নির্বাচন হওয়া দরকার।
 
ইসি সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে অভিযোগ করে তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা চাই, ইউপি নির্বাচনে জোর করে যারা একক প্রার্থী হয়েছে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করে সেখানে ইসি তার নিজস্ব ক্ষমতা দিয়ে নতুন করে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করুক। অতীতে তারা যে দুষ্কর্ম করেছে সে জায়গা থেকে নিজেদের মুক্ত করার ও নিজেদের স্বচ্ছতা প্রমাণের এটি একটি সুযোগ।
 
বিএনপির কাউন্সিল প্রসঙ্গে নোমান বলেন, আমরা ১৯ মার্চ কাউন্সিল করতে চাই। কিন্তু সরকার নির্দিষ্ট স্থানের অনুমতি দিচ্ছে না। স্থান ছাড়া আমরা কাউন্সিলের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিতে পারছি না। আসলে বিএনপির কাউন্সিল নিয়ে সরকারের মধ্যে একটা ভয় কাজ করছে। কাউন্সিলে দেশ-বিদেশ থেকে লাখ লাখ কাউন্সিলর-ডেলিগেট আসবে। আমরা প্রচার না করলেও তারা আসবে। এই জায়গায় সরকারের ভয়।
 
তিনি বলেন, বিএনপির অনুষ্ঠান মানে হাজার হাজার লোকের সমাগম। আর সরকার জনগণকে ভয় পায়। সে কারণে তারা বিএনপিকে কাউন্সিলের অনুমতি দিতে ভয় পাচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, সরকার তাদের রুখতে পারবে না।
 
আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, সংসদে সোমবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- ডিজিএফআই ও দুইজন সম্পাদক সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে আমরা স্তম্ভিত হয়েছি। ডিজিএফআই কে? ডিজিএফআই কাদের আন্ডারে? এই সরকারের, এই প্রধানমন্ত্রীর। তারপরও  প্রধানমন্ত্রী যদি তার মুখ দিয়ে এ ধরনের কথা বলেন, তাহলে আমরা যারা আম-জনতা আমরা সেখানে কী চিন্তা করব, কী বুঝব- আমি সেটা জানি না। দুইজন সম্পাদক (প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম) তাদের বক্তব্য বলেছেন। সেগুলো যদি আদালতে যায় সেখানে সে সম্পর্কে আলোচনা হতে পারে। যদি কেউ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে থাকে তাহলে আদালত বা বিচারালয় সে সম্পর্কে তাদের বক্তব্য দিতে পারেন। কিন্তু সরকার বলছে, মামলাও এখনো হয়নি। মামলার জন্য মাত্র রিকমেনডেশন নিয়ে ওপরে পাঠানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত তারা দেবে।অথচ এ দুই সম্পাদকের সাথে তো সরকারের ভালো খাতির ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সে খাতিরে ছেদ পড়ল কেন, তা আমার জানা নেই।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে এবং এনডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর হোসেন ঈসার সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কল্যাণ পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হেলেন জেরিন খান, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, সাবেক ছাত্রদল নেতা সরদার মো. নুরুজ্জামান প্রমুখ।