খেলাপি ঋণ আদায়ে কোম্পানি নিয়োগ হবে

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ২২:৪০

খেলাপি ঋণ আদায়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খেলাপি ঋণ আদায়ে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে আমরাও এটি করতে চাই। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মতিয়া চৌধুরীসহ বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যেসব খেলাপি ঋণ স্বাভাবিকভাবে আদায় করা কঠিন হবে, সেগুলো আদায় করার জন্য অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে এ কোম্পানি কোনো শক্তি খাটিয়ে নয় বরং নিয়ম-কানুনের মধ্যে থেকেই ঋণ আদায় করবে। এই কোম্পানি একটি বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান হবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান আমেরিকাতেও রয়েছে। তারাও এভাবে খেলাপি ঋণ আদায় করে থাকে। আমরাও একইভাবে খেলাপি ঋণ আদায়ে চেষ্টা করবো।

প্রাক বাজেট আলোচনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে স্কুলগুলোর এমপিওর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে যাচাই-বাছাই করে আগামী তিন অর্থবছরে সেগুলোকে ধাপে ধাপে এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে হাওর অঞ্চলে অতিবন্যার কারণে ফসল নষ্ট হয়। এতে করে কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ে। তাদের এ ক্ষতি কমিয়ে আনতে আগামী বাজেটেই কৃষকদের ইন্স্যুরেন্সের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান ।

আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভ্যাটের স্তর তিনটি হবে। ৫ শতাংশ, ৭ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ । বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আছে সেক্ষেত্রে কী হবে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটিকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের প্রথম বছরেই আমরা ৫০ হাজার মেশিন বসিয়ে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করবো। এটির সংখ্যা পরবর্তীতে বেড়ে ৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। আয়কর ও কর্পোরেট কর কমানোর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, কর্পোরেট কর যতটা সম্ভব কমানো হবে। রাজস্বের প্রধান উত্স ভ্যাট, শুল্ক, আয়কর ও কর্পোরেট কর। তাই রাজস্ব আদায়ের দিকেও নজর রাখতে হবে। রাজস্ব আদায় বাড়াতে হার কমিয়ে আওতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।