দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১১ ভাগই আসে ইলিশ মাছ থেকে এবং জিডিপিতে ইলিশের অবদান প্রায় শতকরা ১ ভাগ। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৫ লাখ পলাক ইলিশ আহরণ করে এবং ২০ থেকে ২৫ লাখ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এতে জড়িত।
ইলিশের বংশবৃদ্ধি, জাটকানিধন বন্ধের পাশাপাশি ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে এ জাটকা সংরক্ষণ। চলবে ২-৮মার্চ পর্যন্ত। আজ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক মৎস্য অধিদফতর মিলনায়তনে 'জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৬' উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ।
এতে জানানো হয়, মাছ চাষীদের হাত থেকে নভেম্বর-জুন পর্যন্ত জাটকা ইলিশ রক্ষায় সরকার ২৫ সেন্টিমিটার সাইজের ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। জাটকা নিধন বন্ধকালীন সময়ে মাছ চাষীদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাকরণ, নির্বিচারে জাটকা নিধন এবং মা-ইলিশ রক্ষায় প্রধান প্রজনন মৌসুমে ১৫দিন প্রজনন এলাকাসহ দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন ও পরিবহণ বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ বাস্তবায়নে প্রতিবছর 'জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ' পালন করা হচ্ছে।
সম্মেলনে জানানো হয়, কারেন্ট জাল, বেহেন্দি জালসহ অবৈধ জাল দিয়ে নির্বিচারে ইলিশ নিধন বন্ধে এবারই প্রথমবারের মতো উপকূলীয় জেলায় 'অবৈধ জাল নির্মূল কমিটি' গঠন করা হয়েছে এবং ৪-১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় ৩২৯টি 'সম্মিলিত বিশেষ অভিযান' এবং ১৬৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৮৮৩টি বেহুন্দিজাল এবং ৭৭৭টি চড়্গড়া, মশারী চাইজাল ইত্যাদি আটক করা হয়েছে।
এছাড়াও জাটকা রক্ষা কর্মসূচির আওতায় গত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ মাসে ১৭৯টি মোবাইল কোর্ট ও ৪৯৮টি অভিযানের মাধ্যমে ১৯টন জাটকা এবং ৭০লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। এসময় ১লাখ ২২ হাজার টাকার জরিমানা আদায়সহ ৩ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
