চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যার সাত মাস পর আরও তিন আসামি গ্রেফতার

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ২২:৪৯

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যার ঘটনার সাত মাস পর আরো তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গত বছর ব্যাংক কর্মকর্তার মেয়ে ও তার মাকে হত্যার ঘটনায় একজন আত্মীয়কে গ্রেফতারের পর আদালতে ওই ব্যক্তি একাই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিল বলে জবানবন্দিতে বলেছিল।

তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইলিয়াছ খান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, এই হত্যাকাণ্ডে নিহতদের ওই আত্মীয় মুশফিকুর রহমানসহ পাঁচজন জড়িত ছিল। গত বছরের ১৫ জুলাই খুলশী থানার আমবাগান এলাকার মেহের মঞ্জিল নামে একটি ভবনের পানির ট্যাংক থেকে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মেহেরুন্নেসা (৬৭) ও তার ৯৪ বছর বয়সী মা মনোয়ারা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মনোয়ারার সেজ ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় নগর গোয়েন্দা পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়ে ২৩ জুলাই মেহেরুন্নেসার ভাইপো ও মনোয়ারার নাতি মুশফিকুর রহমানকে (৩২) গ্রেফতার করে। মুশফিক মনোয়ারার মেজ ছেলে মতিউর রহমানের পুত্র। ২০০৪ সালে মতিউর মারা যাওয়ার পর মুশফিকের মাকে বিয়ে করেন তার সেজ চাচা মোস্তাফিজুর, যিনি মামলার বাদী। মেহেরুন্নেসা ও মনোয়ারার কাছে বড় হওয়া মুশফিক তাদের অমতে বিয়ে করায় তাকে মেহের মঞ্জিল থেকে বের করে দেয়া হয়। এ নিয়ে দাদি-ফুপুর ওপর ক্ষুব্ধ ছিল মুশফিক। গ্রেফতারের পরদিন মুশফিক মহানগর হাকিম আবু সালেম মো. নোমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছিল, টাকা না পেয়ে নিজেই তার দাদি ও ফুপুকে হত্যা করে লাশ পানির ট্যাংকে ফেলে দিয়েছিল।

এরপরও তদন্তকারী কর্মকর্তা এ বিষয়ে তদন্ত চালাতে গিয়ে দেখতে পান, নিহত মেহেরুন্নেসার খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোনে একটি নাম্বার রয়েছে। এই নাম্বারের সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার মো. মুসলিম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রীকে গ্রেফতার করেন তারা। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মেহেরুন্নেসার প্রতিবেশী মো. মাসুদ রানা (৩৯) ও মো. শাহাবউদ্দিন ওরফে সাবু ওরফে মুছা (৩৭) নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মুশফিকের স্ত্রীর বড় ভাই মুন্নারও নাম আসে। ফলে তাকেও খুঁজছে পুলিশ। মুসলিমকে গ্রেফতারের পর সে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলে এবং ঘটনার সাথে জড়িত সে ছাড়া আরও তিনজনের নাম প্রকাশ করে আদালতে জবানবন্দি দেয়।