নগরের কোলাহল ছেড়ে ছুটে চলা! ব্যস্ততার আষ্টেপৃষ্টে যে জীবন বাঁধা, তাকে একটুখানি নিস্তার দেয়া। একটুখানি হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে নিসর্গের পানে। গন্তব্য ঢাকা থেকে গাজীপুর। নৈসর্গিক 'ঢাকা রিসোর্ট'।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ওয়েস্ট এর ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উদ্যোগে ঢাকা রিসোর্টে হয়ে গেল বাৎসরিক শিক্ষা সফর ও বনভোজন। রৌদ্রজ্জ্বল সকালে একদল উচ্ছল, তারুণ্যদ্দীপ্ত, প্রাণবন্ত শিক্ষার্থীর ছুটে চলা। প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর এ সফরে সঙ্গী ছিল বিভাগের চেয়ারপারসনসহ অন্যান্য শিক্ষকরাও।
তিলোত্তমা রাজধানী ছেড়ে বাসে যাত্রা। শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে আনন্দের অভিব্যক্তি। সারাটা পথ যেতে যেতে চললো হৈ-হুল্লোড়, আর নাচ-গান। ঢাকার খুব কাছেই হওয়ায় দুপুর নাগাদ পৌঁছে যাই আমরা। কিন্তু কারো চোখেমুখে ক্লান্তির ছিটেফোঁটাও নেই। এর মাঝেই চলে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন। খাবার পর্ব শেষে আয়োজন করা হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের খেলাধূলার। এতে পর্যায়ক্রমে অংশ নেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পিকানক স্পট। শিক্ষকরা পিছিয়ে থাকবেন! তা কি করে হয়? নানা রকম মজার খেলায় মেতে উঠলেন তারাও।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হবার উপক্রম। এর ফাঁকেই চলতে লাগলো সবার গল্প,আড্ডা,হৈ-হুল্লোড় আর ছবি তোলার কাজ। প্রিয় মুহূর্তগুলোকে ফ্রেমবন্দী করার প্রচেষ্টায় সবাই কমবেশি ব্যস্ত সময় পার করলো।
এবার সার্বিক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পালা। এ পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিবেশন করা হয় গান, নাচ ও অভিনয়। প্রিয় শিক্ষকরাও সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ করেন সবাইকে।
বিকেলের পড়ন্ত সোনালী রোদের ছটা গায়ে এসে লাগতে শুরু করেছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাঝেই চলে পুরস্কার বিতরণী। বিভিন্ন খেলায় বিজয়ীদের হাতে উপহার তুলে দেন ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোফাজ্জল হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক গুরুদাস মন্ডল, সহযোগী অধ্যাপক অনিন্দিতা পালসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় ডিজে পার্টি। বার্ষিক শিক্ষা সফরের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন এ বিভাগের অ্যালাইমনাই সদস্য শেখ রায়হান হোসেন, দীপু, হিমন এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিহাব, অনিক হাসানসহ আরো অনেকেই। আয়োজক হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন মৃগাঙ্ক, জাহাঙ্গীর ও মাহেরুল।
পশ্চিমের সূর্যটা ডুবুডুবু। এবার তবে ফেরার পালা। ভাবতেই মনটা বিষাদে ছেয়ে যায় অবস্থা! আবার ফিরে যেতে হবে ব্যস্ত নগরীতে। আবারও রুটিন মাফিক ক্লাস, পরীক্ষা আর অ্যাসাইমেন্ট এর বাঁধা-ধরা নিয়মের বেড়াজালে।
