মুন্সীগঞ্জে অগ্নিদগ্ধ হয়ে গৃহবধুর মৃত্যু

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৬, ২২:২৬
লৌহজংয়ের গৃহবধূ বিউটি বেগম (৩২) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ঘটনার পর থেকে স্বামীসহ বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।
 
চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের ৯০ ভাগ পুড়ে যায়। এ অবস্থায় রাত ৮টার দিকে নিভে যাবে তার প্রাণ প্রদীপ। 
 
লৌহজং থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানান, স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুরী-ননদ ও স্থানীয় মেম্বারের দেয়া অপবাদ সইতে না পেরে হাটভোগদিয়া গ্রামের স্বামীর বাড়িতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহনের চেষ্টা চালায়।
 
অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু বিউটি বেগমের চাচা আব্দুল ওহাব শেখ জানান, বিউটি বেগমকে গত ১৫ বছর আগে আল আমিন খানের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের ঘরে চারটি সন্তান আসে। গত কিছু দিন ধরে শ্বশুর বাড়ির লোকজন পরকীয়ার অভিযোগ করে। এ নিয়ে তার স্বামী আল আমিন, শ্বশুর জব্বার খান, শ্বাশুরী আমেনা বেগম ও ননদ কাউসারী বেগম তাকে নানা কথা বলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
 
শুক্রবার সকালে সালিশের কথা বলে স্বামীর বাড়িতে স্থানীয় মেম্বার মনসুর আসেন। বিউটিকে প্রকাশ্যে নানা অপবাদ দেয়া হয়। সইতে না পেরে তাদের উপস্থিতিতেই বিউটি ঘরে থাকা কেরোসিন তেল গায়ে ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহননের চেষ্টা চালায়। পরে পালিয়ে যায় সালিশকারী ও অপবাদ দেয়া লোকজন।
 
মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হলে বিউটিকে প্রথমে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়।
 
ওসি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন স্বামী, শ্বশুর, স্বাশুরী, ননদ, মনসুর মেম্বার, বাদশা শেখ ও তার স্ত্রীসহ মোট সাত জনকে আসামী করে একটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।