একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত বলেছেন, ১৯৭১ সালে ২৮-২৯ বছর বয়সে লেখালেখির প্রথম দিকে আমি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলাম। এবার একুশে পদক পেলাম। এই দুটি পুরস্কার পাওয়ায় আমি খুশি, আনন্দিত ও আপ্লুত।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে সাহিত্য পত্রিকা শব্দগুচ্ছ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত বলেন, পুরস্কার পাওয়া নিয়ে আমি আগে-পরে সময় বিবেচনা করি না। কখন পাওয়া উচিত ছিল এটাও বিবেচ্য বিষয় না। পুরস্কার পেয়েছি এটাই বড় কথা। সরকার আমাকে সম্মান দিয়েছে। এতেই আমি আনন্দিত।
তিনি বলেন, অনেকেই আমার লেখার সমালোচনা করেন। বলে থাকেন, আমার লেখা কবিতার সঙ্গে গল্প মেশানো। সাম্প্রতিককালে যে লেখাগুলো শুরু করেছি তা ছোট উপন্যাস। যেটাকে আমি বলি গল্প নয়, বড় গল্প নয়, উপন্যাস নয়, এটা সম্পূর্ণ নতুন একটি ফর্ম-ছোট উপন্যাস। এই ছোট উপন্যাস নতুন একটি আর্টিস্টিক ফর্ম। এটা শুরু করেছি এবং তিনটি বই প্রকাশ করেছি। আরো একটি প্রকাশের অপেক্ষায়।
IMG0
অনুষ্ঠানে আলোচকরা জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের লেখালেখি ও কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের লেখা অনেকে দুর্ভেদ্য মনে করেন। কিন্তু তার লেখায় যে কারুকাজ আছে তা অন্যের লেখায় নেই। অনেকে গল্প লেখেন রিপোর্ট আকারে। কিন্তু সাহিত্য আলাদা জিনিস।
তিনি বলেন, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত ১৯৭১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন। এতবছর পর পেলেন একুশে পদক। এই পদক তার আরো আগে পাওয়া উচিত ছিল। বিচার বিবেচনার ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত পেয়েছেন এতেই আমরা খুশি। তার এই প্রাপ্তিতে আমরা সম্মানিত হয়েছি।
জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের একুশে পদক প্রাপ্তিতে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন লেখকের সহধর্মিনী ড. পূরবী বসু। তিনি বলেন, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত তার লেখায় নিজস্ব ভাষা নির্মাণ করেছেন। তার উপস্থাপন শৈলীতে নিজস্ব ছাপ আছে।
কবি, গীতিকার ও সাংবাদিক জীবন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে মরণোত্তর পদক দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। সেই তুলনায় জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত জীবদ্দশায় একুশে পদক পেয়েছেন। এটা আমাদের জন্য পরম পাওয়া।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেখক বেলাল বেগ। আর সঞ্চালনায় ছিলেন শব্দগুচ্ছ সম্পাদক কবি হাসান আল আব্দুল্লাহ। এছাড়াও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, সাংস্কৃতিক কর্মী উবায়দুল্লাহ মামুন, শীতাংশু গুহ, কবি নাসরিন চৌধুরী, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নিউইয়র্কের সভাপতি মাহফুজা হাসান, রাজিব আহসান, আনিসুর রহমান অপু, স্বীকৃতি বড়ুয়া ও সাংবাদিক শামীম আল আমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি রওশন হাসান, নাজনীন সীমন এবং হাসান আল আব্দুল্লাহ। এছাড়া গান শোনান দিঠি হাসনাত। অনুষ্ঠানে প্রয়াত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আলী আনোয়ার স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে জ্যোতিপ্রকাশ দত্তকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়।
