সতর্ক অনলাইন কার্যক্রমে ঝুঁকিমুক্ত থাকবে কর্ম জীবন

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৬, ১০:৪৫
দিন দিন অনলাইন ব্যবহারকারীদের হার বাড়ছে, বাড়ছে মানুষের অনলাইন নির্ভরতাও। কিন্তু যা খুশি তা করার সুযোগ নেই এখানে। যদি কেউ তা করেন, তাহলে হুমকির মুখে পড়তে পারে তার কর্ম জীবন।
 
সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান মতে, নতুন চাকরি বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে গুগলের মাধ্যমে অনলাইন কার্যক্রমের নজরদারী করে থাকে প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। কারণ, প্রতিটা প্রতিষ্ঠানই চায় নির্ভরশীল ব্যক্তিকে।
 
অনলাইন রেপুটেশন ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘ব্র্যান্ড ইউরসেলফ’ এর প্রধান নির্বাহী পেট্রিক অ্যামব্রনের মতে, এমন কিছু কাজ আছে যা হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে যে কারো ক্যারিয়ারকে। চাকরি-প্রার্থী বা চাকরিজীবীদের মোটা দাগে পাঁচ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন অ্যামব্রন।
 
গণমাধ্যমে নেতিবাচক বিবৃতি
গণমাধ্যমে দেয়া কোনো নেতিবাচক মন্তব্য আপনার ক্যারিয়ারকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। মনে রাখবেন, স্থানীয় ইন্ডাস্ট্রিগুলো নিয়োগ দান বা প্রমোশনের ক্ষেত্রে নিউজ সাইটগুলোর উপরও নির্ভর করে। পেট্রিক অ্যামব্রন জানান,পূর্বে সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া মন্তব্যের সূত্র ধরে টেক ইন্ডাস্ট্রির অনেকেরই অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থায় পড়তে হয়েছে।
 
গ্রেফতার কিংবা আইন লঙ্ঘন
আইন অনুযায়ী আপনার অভিযুক্ত হওয়ার বা পলাতক থাকার বা গ্রেফতার হওয়ার কোনো সরকারী নথি যদি সার্চ ইঞ্জিনে পাওয়া যায়, তবে আপনার আর রক্ষে নেই। বলাই বাহুল্য, একটি আইনি ঝামেলাই আপনার চাকরি জীবনকে হোঁচট খাওয়ানোর জন্য যথেষ্ট।
 
নেতিবাচক অনলাইন পর্যালোচনা
পরশ্রীকাতর মানুষের মতো পরশ্রীকাতর কিছু সাইটও থাকে। এদের কাজই হলো নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে অন্যের উপর অযৌক্তিকভাবে ছড়াও হওয়া বা অন্যের ব্যবসা বা কাজ নিয়ে অপপ্রচার চালানো। এরা প্রায় নিয়ন্ত্রণের ঊর্ধ্বে, তাই এদের থেকে দূরে থাকতে হবে।
 
ব্যাকআপ হয়ে গেলেও সুস্থির থাকুন
প্রেমিকার সাথে ছাড়াছাড়ির পর অনেকে রেগে মেগে উদ্ভট সব কাণ্ডকারখানা শুরু করেন। এটা ক্যারিয়ারের জন্য মোটেই ভালো নয়। রাগের মাথায় বদলা নিতে গিয়ে প্রেমিকার ভুয়া পর্ণ ইমেজ বা নিজেদের একান্ত মুহূর্তের যুগল ছবি ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক না। কষ্ট হলেও সংযত থাকুন, তাতে আর যাই হোক আপনার সুনাম অক্ষুণ্ণ থাকবে।
 
ওয়েবসাইট বা ব্লগে কুৎসাপূর্ণ পোস্ট
হুটহাট কারো মন্দ দিক তুলে ধরে কিছু একটা পোস্ট করে ফেললে এর নেতিবাচক দায় আপনার উপরও বর্তাতে পারে। এ নিয়ে যদি আবার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে কুৎসা রটানো শুরু হয়, তবে তো কথাই নেই, এর সাথে অবধারিতভাবে আপনার নামও জড়াবে। এটা নিয়োগকর্তাদের মনে সংশয় তৈরি করতে পারে কিংবা আপনার বর্তমান কর্মস্থলে বিরূপ পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। তাই ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে ইতিবাচক অনলাইন সক্রিয়তা নিশ্চিত করুন।