রংপুরে বিরল রোগে আক্রান্ত একটি পরিবার

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৬, ১৫:০১
রংপুরে একটি বৃক্ষ মানব পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে। বৃক্ষ মানব আবুল হোসেন বাজানদারের মতোই হাতে-পায়ে গাছের মতো শেকড় গজানো বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছেন পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের আব্দুল্ল্যাপুর কালসারডাড়া গ্রামের তাজুল ইসলাম (৪৮) ও তার শিশুপুত্র রুহুল আমিন (১০)। এর ফলে তাদের দুই হাত এবং পায়ের কিছু অংশ বিকৃত হয়ে অনেকটা গাছের শেকড়ের মতো রূপ নিয়েছে। বর্তমানে বাবা ছেলে বিরল এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন-যাপন করছেন।
 
রবিবার সকালে কালসারডাড়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে বিরল এই রোগে আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৪৮ বছর ধরে তারা এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বংশ পরম্পরায় তারা এ রোগে ভুগছেন। তাজুল ইসলামের পিতা আফাজ মুন্সিও এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার বড় ভাই বাছেদ আলীও এ রোগে আক্রান্ত। কিছুদিন আগে তার দুই পা কেটে ফেলা হলেও হাতে গাছের মতো গজানো শেকড় নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তিনি। তাজুল ইসলামের জন্মের দুই মাস পরই হাত ও পায়ের নখগুলো বড় হতে থাকে। ধীরে ধীরে তা গাছের শেকড়ের মতো বের হয়ে আসে। দিন যতই যায় নখগুলো ততই বড় হতে থাকে। তার দুই পুত্র রুবেল মিয়া (১২) ও রুহুল আমিন (১০)। রুবেল সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিলেও রুহুল আমিন হাত ও পায়ে বড় বড় নখ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। রুহুল যতই বড় হচ্ছে শেকড়ের মত গজানো নখগুলো ততই বড় হচ্ছে। পিতা-পুত্র কখনোই নিজ হাতে খেতে পারেন না। তার স্ত্রী রুবি বেগম তাদেরকে খাইয়ে দেন। কখনো কখনো চামচ দিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করেন। রোগটি জন্মগত হওয়ায় কোন কাজ করতে পারেন না তিনি। তাই বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি পেশাকে। রুহুল আমিনও তার পিতার মতোই ভিক্ষাবৃত্তি পেশায় জড়িয়ে পড়ে।
 
বৃক্ষ মানব তাজুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ঠিকমতো দুই বেলা খাবারই জুটছে না। ভিক্ষা করে বাবা-ছেলে যা পাই তা দিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। তিনি বলেন, রংপুরের বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু কোন ফল হয়নি। চিকিৎসকরা বলেছেন, হাত ও পা কেটে ফেলতে হবে। তাজুল ইসলাম জানান, এখন যেভাবে বেঁচে আছি তাতে বাকি দিনগুলো ভিক্ষা করে স্ত্রী-সন্তানদের মুখে দুই বেলা খাবার জোটাতে পারছি। হাত ও পা কেটে ফেললে কিভাবে তাদের মুখে আহার তুলে দিবো। স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার আর্তি জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘হাত দুটো কোনরকম নাড়াচাড়া করতে পারলেও পা দুটোর ওজন অনেক। উঁচু করতে পারি না, খুব কষ্ট হয়। তবে হাতের চেয়ে পা দুটোর অবস্থা খুব খারাপ। খুব জ্বালা-পোড়া করে। তীব্র ব্যাথায় বাবা-ছেলে ঘুমাতে পারি না। হাত ও পায়ের নখ কাটলেই বের হতে থাকে রক্ত।’
 
স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান তারা। পরিশ্রম করে স্ত্রী-সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে চান। এ জন্য তাজুল ইসলাম তার নিজের ও সন্তানের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীসহ সমাজের দানশীল ও বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন।