হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের আলোচনা সভায় বক্তারা

দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতা-মানবাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৬, ২০:৫৩
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের ‘প্রোমোটিং রিলিজিয়াস ফ্রিডম ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক এক আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এ লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঐসব দেশের সরকার ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে চলেছে।
 
স্থানীয় সময় বুধবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটর ডিসির ক্যাপিটল হিল সংলগ্ন হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরেরর আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাম্বাসেডর ডেভিড এন স্যাপারস্টিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে পাকিস্তান, ভারত বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও নেপালে হুমকি ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ঐসব দেশে সংঘাত-সহিংসতা বহুমুখী রূপ ধারণ করেছে। ফলে সেখানে মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে দেশগুলোর সরকার ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্যাগী এবং এ লক্ষ্যে আন্তরিক প্রয়াস চালাতে হবে। 
 
তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের সহযোগিতা করার লক্ষ্যে ঐসব দেশের সরকার ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে চলছে। চেষ্টা করা হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ঐসব দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, সংখ্যালঘুদের অধিকার ও মানবাধিকার পরিস্থিতির যেন উন্নতি সম্ভব হয়।’
 
বাংলাদেশে ২০১৪ সালে সংখ্যালঘুদের কিছু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, হিন্দু, আহমদিয়া, শিয়া ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিষয় তুলে ধরে অ্যাম্বাসেডর ডেভিড এন স্যাপারস্টিন বলেন, এগুলো বেশ উদ্বেগর বিষয়। ব্লগার, লেখক ও সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। 
 
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার ও লেখক নির্মমভাবে খুন হওয়ার বিষয় ভীষণ উদ্বেগজনক এবং তা বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করে বিচারের ব্যাবস্থা করা।’
 
ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছেন উল্লেখ করে স্যাপারস্টিন বলেন, ‘ঢাকায় আমাদের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সরকার, নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী সমাজ, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে যাতে দেশটিতে মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং মানবাধিকর পরিস্থিতি আরো উন্নত হয়। 
 
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আন্তরিকভাবে চান তা নিশ্চিত হোক।
 
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সরকারসমূহের উচিৎ এ বিষয়ে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা। কারণ ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
 
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অবস্থা প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে চাইলে স্যাপারস্টিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেখানে যা ঘটছে তা ঠিক নয়। রোহিঙ্গা মুসলমানদের অধিকার নিশ্চিত করা উচিৎ।’
 
হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো লিসা কার্টিজের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন পাকিস্তানের সাবেক সংসদ সদস্য ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিষয়ক বইয়ের লেখক ফারাহনাজ ইস্পাহানি, পাকিস্তানের সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্লিডিং ফর রিলিফের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ রফিক, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অ্যাডভোকেসি পরিচালক জন শিফটন এবং হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের গবেষণা সহযোগি আলিভিয়া ইনোস।