আমিষের চাহিদা পূরণে শুয়োপোকা!

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৬, ১০:০৬
শুয়োপোকা সুস্বাদু খাবার-এ ধারণা হয়তো সবার মনে নাও হতে পারে। তবে মধ্য আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুনের মানুষের কাছে আমিষ ও খনিজ সমৃদ্ধ সুস্বাদু খাবার হিসেবে পরিচিত।
 
প্রাণীর সংখ্যা বাড়ছে, সাঙ্গে এর দামও বাড়ছে এবং এর পাশাপাশি পরিবেশগত একটা প্রভাবও রয়েছে। তবে ক্যামেরুনের বিজ্ঞানীরা ভাবছেন পরিবেশ রক্ষায় ভিন্নভাবে শুয়োপোকা উৎপাদন বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা যায় একটি বাজারে ছোট ছোট শুয়োপোকা বিক্রি হচ্ছে। আর ওগুলোর ভালো বিক্রিও হচ্ছে। অনেকে এটা রান্না করে, অনেকে ভেজে খায়। এসব শুয়োপোকাদের আমিষের অন্যতম উৎস হিসেবে ধরা হয়। এসব পোকা মাছের পরিপূরক খাবার হিসেবেও কাজ করে। সুতরাং ক্যামেরুনে যেখানে প্রতি তিনজন শিশুর একজনই অপুষ্টিতে ভোগে সেখানে এই শুয়োপোকার খাদ্য প্রোটিনের চাহিদা পূরণের অন্যতম একটি উৎস হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু দিনে দিনে এটির চাহিদা বাড়ছে।
 
সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশী হয়ে যাবার কারণে বাজারেও এর দাম বাড়ছে। বাজারে এক ঝুড়ি শুয়োপোকা প্রায় ৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে যেটি অন্য সব মাংসের চেয়ে দামী। এসব শুয়োপোকা খুঁজে পাওয়াটা খুব একটা সহজ নয়। ঘন বনজঙ্গলের ভেতর পাম গাছের ডালে থাকে এসব শুয়োপোকা। শুয়োপোকার উৎপাদন বাড়াতে নতুন একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ‘লিভিং ফরেস্ট ট্রাস্ট’এর সহ প্রতিষ্ঠাতা জন মোয়াফোর বলছেন এটা খুব সফল একটা ঘটনা। প্রথমত কেউ জানতোইনা যে শুয়োপোকা বৈজ্ঞানিকভাবে উৎপাদন করা যায়। আমরা যখন এই ধারণা নিয়ে আসলাম স্থানীয় লোকজন আমাদের বিশ্বাসই করছিলনা। আমাদের বুঝাতে হয়েছে যে তাদের প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে আমাদের এই উদ্যোগ। আর আমার মনে হয় বৈজ্ঞানিকভাবে এই শুয়োপোকা উৎপাদনের ফলে এখানকার মানুষের অনেক লাভ হবে, তাদের জীবনমান আরও উন্নত হবে।
 
নতুন উপায়ে এই পোকা উৎপাদনে দরকার একটি প্লাস্টিক বক্স। প্লাস্টিক বক্সের ভেতরে রাখা পাম গাছের ডালের মধ্যে যে শুয়োপোকা জন্মায় তা বনজঙ্গলের তুলনায় আট থেকে দশ গুণ বেশি। একজন চাষী মিশায়েল সোনগুই বলছেন-এ প্রক্রিয়ায় তার সময় বেঁচেছে। আমি এখন মাসে মাত্র চারবার জঙ্গলে যাই। কিন্তু আগে হয়তো প্রতিদিনই আমাতে জঙ্গলে যেতে হতো। বক্সের মধ্যে পাম গাছের ডালগুলো প্রক্রিয়াজাত করে রেখে দেয়ার পর সেখানে আমার অতিরিক্ত মনোযোগ দেয়ারও কোন প্রয়োজন নেই। আমার অনেক সময় বেচে যাচ্ছে। এভাবে পাম গাছ থেকে শুয়োপোকা উৎপাদন করে আমি খুবই গর্বিত।
 
ক্যামেরুনে প্রতি তিনজন শিশুর একজনই ভুগছে অপুষ্টিতে। কারণ পুষ্টিকর খাবার তারা গ্রহণ করতে পারেনা, ফলে শারিরীক ও মানসিকভাবেও এসব শিশুরা বেড়ে উঠতে পারেনা। ক্যামেরুনের একটি গ্রামের একজন পরিসেবক মেবেদে দিউদোনে বলছেন- আমাদের দেশের শিশুরা যদি পাম গাছ থেকে উৎপাদিত এসব শুয়োপোকা নিয়মিত খায় তাহলে আর তাদের শারিরীক অপুষ্টি থাকবেনা। কারণ প্রোটিনসমৃদ্ধ প্রাণীদের মধ্যে শুয়োপোকা অন্যতম। প্রোটিনের চাহিদা মিটলে অপুষ্টির সমস্যা একদম হারিয়ে যাবে। ক্যামেরুনের তিনটি গ্রামে পাইলট কর্মসূচি হিসেবে এ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। আর এটা যদি পুরোপুরি সফল হয় তাহলে হর্ন অব আফ্রিকার ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুখের বার্তাই নিয়ে আসবে।বিবিসি