ভাষা সৈনিক নাগিনা জোহার ইন্তেকাল

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৬, ০০:৩৩
আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ভাষা সৈনিক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামসুজ্জোহার সমধর্মিণী ভাষা সৈনিক নাগিনা জোহা গতকাল সোমবার দুপুরে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে....রাজেউন)। গত ১ মার্চ বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শনিবার রাতে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। গত রবিবার দুপুর থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। গতকাল দুপুরে কর্তব্যরত চিকিত্সক তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। মরহুমা নাগিনা জোহার তিন ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান ২০১৪ সালে ৩০ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন। মেজ ছেলে একেএম সেলিম ওসমান বিকেএমইএ-এর সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য। ছোট ছেলে একেএম শামীম ওসমান আওয়ামী লীগ নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের দুইবারের সংসদ সদস্য। নাগিনা জোহার মৃত্যুর সংবাদে শহরে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাদ আছর খানপুরস্থ নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের সামনে অনুষ্ঠিত জানাজায় দলমত নির্বিশেষে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। সন্ধ্যায় মাসদাইর কবরস্থানে বড়ছেলে নাসিম ওসমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। জানাজার পর বিভিন্ন সংগঠন মরহুমা নাগিনা জোহার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জেলার ৪ এমপি, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদ নেতৃবৃন্দ মরহুমার কফিনে পুষ্পস্তবক  অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া  শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন নারায়ণগঞ্জ নিউজ পেপার ওনার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।
 
উল্লেখ্য, নাগিনা জোহা ১৯৩৫ সালে অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার কাশেম নগরে জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের পরিবারের পূর্বপুরুষদের নামানুসারে গ্রামটির নামকরণ করা হয়। বাবা আবুল হাসনাত ছিলেন সমাজ হিতৈষী ও কাশেম নগরের জমিদার। তিনি শিল্প-সংস্কৃতির একজন বড় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। নাগিনা জোহার বড় চাচা আবুল কাশেমের ছেলে আবুল হাশিম ছিলেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের মুসলিম লীগের সেক্রেটারি ও এমএলএ। চাচাতো ভাই মাহবুব জাহেদী ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ভাগ্নে পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট নেতা সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহ রাজ্য সভার স্পিকার ছিলেন। নাগিনা জোহা ১৯৫০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মেট্রিক পাস করেন। ১৯৫১ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের সন্তান রাজনীতিবিদ এ কে এম শামছুজ্জোহার সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। স্বামীর বাড়িতে এসেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তার শ্বশুর তত্কালীন এমএলএ খান সাহেব ওসমান আলীর চাষাঢ়ার বাড়ি ‘বায়তুল আমান’ ছিল আন্দোলন সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু।
 

মরহুমার মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করে বিভিন্ন সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার মরহুমার কুলখানি উপলক্ষে দুপুরে খানপুর হাসপাতালের সামনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে দুইপুত্র সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান মিলাদ মাহফিলে সকলকে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন।