বগুড়ার শেরপুরে শাহীন আলম (২৫) নামে এক যুবক শিকলবন্দি জীবনযাপন করছেন। মানসিক ভারসাম্যহীন এই যুবককে নিজ বসতবাড়িতে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছে। সংসারে প্রচণ্ড অভাব-অনটন থাকায় চিকিত্সা করানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাকে সুস্থ করে তুলতে কবিরাজী চিকিত্সা চলছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
শেরপুর শহরের অদূরে মামুরশাহী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির পাশেই একটি গাছের সঙ্গে শিকলে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে টগবগে যুবক শাহীন আলমকে। শাহীনের মা ইসাতন বিবি জানান, অনেক আগেই তিনি স্বামী আসমত আলী সেখকে হারিয়েছেন। চার ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। এর মধ্যে দুই ছেলে ট্রাক চালক। আর একজন ইটখোলায় শ্রমিকের কাজ করেন। মাত্র ৬ শতাংশ জমিই তার সম্বল। সেখানে ছোট ছোট ঘর তুলে তারা পৃথকভাবে বসবাস করেন। অভাবের কারণে অন্যের বাসা-বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন তিনি। যেদিন কাজ জোটে না সেদিন না খেয়ে থাকতে হয়। এ অবস্থায় ছোট ছেলে শাহীন অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রায় দুই মাস আগে মানসিক ভারসাম্যহীন শাহীন পাগলামী শুরু করে। ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে, আবার খুঁটি ধরে ঝাঁকুনি দিতে থাকে। মানুষ দেখলেই তার দিকে তেড়ে যান। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিত্সা করানো তার পক্ষে অসম্ভব। তার পাগলামিতে গ্রামের সবাই অতিষ্ঠ। তাই শিকলে বন্দী করে কবিরাজী চিকিত্সা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
শাহীনের বড় ভাই আবুল কালাম জানান, মানুষের গালিগালাজ থেকে রক্ষা পেতে ভাইকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.কে.এম সরোয়ার জাহান জানান, এ ধরনের খবর তার জানা নেই। তবে খোঁজখবর নিয়ে তাকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
