বিজ্ঞান
সোনিয়া ফেরদৌসী
সহকারী শিক্ষক,
হলি ফ্লাওয়ার স্কুল, ঢাকা
কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন
সুপ্রিয় বন্ধুরা, অযথা উত্তর দীর্ঘায়িত করার প্রয়োজন নেই। বেশি বাক্য লিখলেই বেশি মার্কস পাওয়া যাবে না। নম্বর অনুযায়ী কখনো এক বাক্যে কখনো দুইবাক্যে ও প্রয়োজনে একাধিক বাক্যে যুক্তিসঙ্গত উত্তর লিখতে হবে।
১। উদ্ভিদ কোন প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে? প্রক্রিয়াটির সংজ্ঞা লেখ। উদ্ভিদ কীভাবে প্রাণীকে সাহায্য করে তার দুইটি উদাহরণ দাও। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তোমার এলাকায় উদ্ভিদ সংরক্ষণের কয়েকটি উপায় লেখ। (১+১+২+২)
উত্তর: উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে।
সালোকসংশ্লেষণ: যে প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ ক্লোরোর্িফলের সহায়তায় খাদ্য তৈরী করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
উদ্ভিদ বিভিন্নভাবে প্রাণীকে সহায়তা করে। যেমন:i.উদ্ভিদের ত্যাগ করা অক্সিজেন প্রাণী তার শ্বাসকার্যে ব্যবহার করে।
ii.প্রাণী তার জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য উদ্ভিদ থেকে পেয়ে থাকে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমার এলাকায় উদ্ভিদ সংরক্ষণের কয়েকটি উপায় নিচে দেওয়া হলো:
i.বিনা প্রয়োজনে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।
ii.এলাকাবাসীকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে।
iii.জ্বালানি হিসেবে গাছের বিকল্প উপায় ব্যবহার করতে হবে।
২। পরাগায়ন কী? মৌমাছি ফুলের মধু খেতে আসলে ফুলের মধ্যে কী পরিবর্তন ঘটে? বেঁচে থাকার জন্য প্রাণী উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল-” এর স্বপক্ষে কয়েকটি বাক্য লেখ। (১+১+৪)
উত্তর: পরাগায়ন: বীজ সৃষ্টির লক্ষ্যে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে পরাগরেণুর স্থানান্তরকে পরাগায়ন বলে। পরাগায়নের ফলে উদ্ভিদের বীজ সৃষ্টি হয়।
মৌমাছি ফুলের মধু খেতে আসলে ফুলের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে।
বেঁচে থাকার জন্য প্রাণী উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল এর স্বপক্ষে কয়েকটি বাক্য নিম্নরূপ:
i. প্রাণী শ্বাস গ্রহণের সময় উদ্ভিদের ত্যাগ করা অক্সিজেন গ্রহণ করে।
ii.উদ্ভিদের কাণ্ড, শাখা ও ফলমূল প্রাণী খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
iii. অনেক পশু পাখির আবাসস্থল হলো উদ্ভিদ।
iv.মানুষ তার বাসস্থান তৈরীতে উদ্ভিদ ব্যবহার করে।
৩। খাদ্যশৃঙ্খল কী? বাঘ,ঘাস, সূর্য ও হরিণকে নিয়ে গঠিত খাদ্যশৃঙ্খলটি ব্যাখ্যা কর। উদ্ভিদের উপর মানুষের নির্ভরশীলতা সম্পর্কে দুটি বাক্য লেখ। (১+৩+২)
উ: বাস্তুসংস্থানে উদ্ভিদ থেকে প্রাণীতে শক্তি প্রবাহের ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে খাদ্য শৃঙ্খল বলে।
বাঘ, ঘাস, সূর্য ও হরিণকে নিয়ে গঠিত খাদ্যশৃঙ্খলটি নিম্নরূপ-
সূর্য ঘাস হরিণ বাঘ। এক্ষেত্রে ঘাস সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে নিজের খাদ্য নিজেই তৈরী করে। হরিণ সেই ঘাস খেয়ে বেঁচে থাকে এবং বাঘ আবার সেই হরিণকে খেয়ে বেঁচে থাকে। এভাবেই শক্তি সূর্য থেকে ঘাস, ঘাস থেকে
হরিণ এবং হরিণ থেকে বাঘে প্রবাহিত হয়।
উদ্ভিদের উপর মানুষের নির্ভরশীলতা সম্পর্কে দুটি বাক্য হলো:
i.মানুষ শ্বাস গ্রহণের সময় উদ্ভিদের ত্যাগ করা অক্সিজেন ব্যবহার করে।
ii.মানুষ খাদ্য হিসেবে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ যেমন ফলমূল, কাণ্ড ইত্যাদি ব্যবহার করে।
