পুরান ঢাকায় গত ৩ দিন ধরে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ওয়াসার লাইনে কোনো পানি আসছে না। ভুক্তভোগীরা ওয়াসার স্থানীয় অফিসে পানির জন্য গণ ধরনা দিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছে না। ওয়াসার মডস জোন-১ অফিস থেকে বলা হয়েছে, মেরামত শেষে লাইনে পানি আসতে আরো ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগবে। ওয়াসার স্থানীয় পাম্পটি অকেজো হওয়ায় এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
পানি না থাকায় পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া, ধুপখোলা, ফরিদাবাদ, সতীশ সরকার রোড, প্যারিদাস রোড, আর এম দাস রোড, কেবি রোড ও মিলব্যারাক এলাকায় সংকটে পড়েছে বাসিন্দারা। টাকা দিয়েও এক কলস পানি কেনা যাচ্ছে না বলে জানালেন এলাকার বাসিন্দারা।
তারা জানান, সারা বছরই ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ থাকে। এছাড়া কালচে ফেনাযুক্ত ঘোলাটে ও নোংরা পানি দিয়ে সাংসারিক কাজ করা যায় না।
অভিযোগ রয়েছে, শতভাগ পরিশোধন না করে নগরবাসীকে পচা ও দুর্গন্ধ পানি পান করাচ্ছে ওয়াসা।
গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা পুলিশ কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, গত সোমবার থেকে ওয়াসার লাইনে কোনো পানি নেই। ওয়াসা থেকে পানি কেনাও যাচ্ছে না। ওয়াসার স্থানীয় অফিসে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ওয়াসার পাম্পটি ২৪ ঘণ্টাই বন্ধ রাখা হয়। ওয়াসার এক শ্রেণির কর্মচারী ও কর্মকর্তা বাইরে থেকে তালা দিয়ে পাম্প ঘরের ভেতরে আড্ডা দেয়। পানি না পাওয়ার অভিযোগ করলে গ্রাহকদের সাথে উল্টো খারাপ ব্যবহার করা হয়।
ওয়াসার মডস জোন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজউদ্দিন বলেন, মডস জোনের পাম্পটি গত ৩ দিন ধরে অকেজো হয়ে আছে। তাই পানি সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্প মেরামতে ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগবে।
এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা- শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষিত হওয়ায় ওয়াসা এ পানি শোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকে; কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। এ সময় পানি শোধনে কেমিক্যালের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে হয়। ফলে চলতি মৌসুমে শীতলক্ষ্যার পানি শোধন করতে দ্বিগুণ রাসায়নিক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে পানির স্বাদ ও গন্ধে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। তবে যথাযথ পরীক্ষা করে উত্পাদিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ পানি জীবাণুমুক্ত ও ব্যবহারের উপযোগী বলেও দাবি কর্তৃপক্ষের।
পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম মুজিবুল হক ইত্তেফাককে বলেন, পানিতে মিশানো মাত্রাতিরিক্ত কেমিক্যাল মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এতে ডায়রিয়া, আমাশয়, জন্ডিস রোগ গণহারে ছড়াতে পারে।
এছাড়া ময়লা ও দুর্গন্ধ পানি দীর্ঘদিন পান ও ব্যবহারের কারণে ডায়রিয়া, জন্ডিস, গায়ে খোস-পাঁচড়াসহ নানা রোগ দেখা দেয়। রয়েছে কিডনি, রক্তচাপ, এজমা, আলসার, যক্ষ্মা এমনকি ক্যান্সারেরও ঝুঁকি। তাই এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকা খুবই জরুরি বলে মনে করেন তিনি। আর এসব রোগ-বালাই কমাতে হলে নগরীতে বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা করতে হবে।
