বাংলাদেশে চায়না কমলার সফল চাষ

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৯, ২১:১০

g আবুল কাসেম ভূঁইয়া

 

বাংলাদেশে চায়না কমলা চাষের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। এ দেশের মাটি এবং জলবায়ু এই কমলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। চায়না কমলা চাষ করা তেমন কঠিন নয়। সামান্য পরিচর্যা করলে গাছে ভালো ফলন আসে। প্রতিবছর ফলন তোলার পর গাছের গোড়ায় পুডিং করতে হয়। গাছ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হয় যাতে করে গাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো বাতাস আসতে পারে। গাছের গোড়ায় পচা গোবর আধা কেজি, টিএসপি চারশ’ গ্রাম, পটাশ তিনশ’ গ্রাম, জিপসাম ২০০ গ্রাম, দস্তা ৫০ গ্রাম, বরুন সার ৫০ গ্রাম দিয়ে পানি দিয়ে সেচ দিতে হবে। সারা দেশে এই চায়না কমলা চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে এই চায়না কমলা চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র খাগড়াছড়ি চায়না কমলা চাষের ব্যাপারে গবেষণা চালিয়ে বেশ সফল হয়েছে। পার্বত্য এলাকা খাগড়াছড়ি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা জানান- চায়না কমলা চাষের ব্যাপারে আমরা গবেষণা চালিয়ে বেশ সফল হয়েছি। আমরা আশা করছি চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে চায়না কমলা চাষ করলে ভালো ফলন আশা করা যায়। সারা দেশে চায়না কমলা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষের উদ্যোগ নিলে দেশে কমলার চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। চায়না কমলা বীজ অথবা কলম রোপণ করা যায়। মে-জুন মাসে চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। আড়াই অথবা তিন বছর পর গাছে ফুল আসে। মার্চ-এপ্রিল মাসের দিকে ফুল আসে এবং নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের দিকে ফলন তোলার সময় হয়। অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় গাছ লাগাতে হয়। গাছে নিয়মিত সেচ দিতে হয়। বাংলাদেশে চায়না কমলার চাষ করে সারা দেশে চমক সৃষ্টি করেছে চুয়াডাঙ্গার ওমর ফারুক খান। ২০১৬ সালের দিকে তিনি ১০০টি চায়না কমলার চারা সংগ্রহ করে নিজের জমিতে চাষ করেন। তিনি জানান- একবিঘা জমিতে ১০০টি কমলার চারা রোপণ করার পর আড়াই বছরের মধ্যে ফলন আসতে শুরু করে। কমলা গাছগুলো উপযুক্ত পরিচর্যার কারণে ভালো ফলন দিচ্ছে। প্রতিটি চায়না কমলা গাছ থেকে একমণ করে ফলন পাচ্ছেন। বাজারে প্রতি কেজি চায়না কমলা একশ’ টাকা করে বিক্রি করছেন। প্রতি কেজিতে ২২ থেকে ২৫টি কমলা আসে।