কক্সবাজারে বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ট্রু এভিয়েশনের কার্গো বিমান বিধ্বস্তের কারণ অনুসন্ধানে আলামত সংগ্রহ করেছে তদন্ত দল।
কক্সবাজার বিমানবন্দরের ম্যানেজার সাধন কুমার মোহন্ত জানান, সিভিল এভিয়েশন ও বিমানটির মালিকানা প্রতিষ্ঠানের গঠিত তিন সদসস্যের তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার পৌঁছে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্ত কমিটি সকালে বঙ্গোপসাগরের নাজিরারটেক পয়েন্টে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিধ্বস্ত কার্গো বিমানটির ব্ল্যাক বক্স ও কাস্টিং ডাটা রেকর্ডিং (সিডিআর) আলামত হিসেবে সংগ্রহ করেছে।
কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের নাজিরারটেক পয়েন্টে বেসরকারি বিমান সংস্থা ট্রু এভিয়েশনের একটি কার্গো বিমান বুধবার সকালে বিধ্বস্ত হয়। কক্সবাজার থেকে চিংড়ি পোনা নিয়ে যশোর যাওয়ার জন্য রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই বঙ্গোপসাগরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানটির পাইলটসহ তিন বিদেশি আরোহী নিহত হন। আহত হয়েছেন এক বিদেশি আরোহী।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন সিভিল এভিয়েশনের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আশরাফ, অতিরিক্ত পরিচালক আইয়ুব খান ও সাইফুল ইসলাম।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আশরাফ সাংবাদিকদের বলেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাস্থল আমরা ঘুরে দেখেছি। কী কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা নিশ্চিত হতে আমরা কাজ করছি। বিমানটির ব্ল্যাক বক্স ও কাস্টিং ডাটা রেকর্ডিং (সিডিআর) আমাদের হাতে এসেছে। এগুলোতে বিমানটির সকল প্রকার ডাটা রেকর্ড রয়েছে। তা পর্যালোচনা করে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ জানা যাবে। এসব আলামত আমরা ঢাকায় নিয়ে যাব।
কতদিন পর তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে তা জানতে চাইলে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথাও জানান এই ক্যাপ্টেন। দুপুরে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে তদন্ত কমিটির সদস্যরা কক্সবাজার ছেড়ে যান।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন জানান, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তিন নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে। এদের মধ্যে ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার কুলিশ আন্দ্রের (৪০) বুধবার বিকালে এবং বিমানের পাইলট মুরাদ কাপারত (৩৮) ও কো-পাইলট ইভান ডেমানের (৩৭) লাশের বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত করা হয়।
