অ্যাপস তৈরির সহজ উপায় নিয়ে সিসটেকের বই প্রকাশ

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৬, ২০:১৬
 
অ্যাপস তৈরির সহজ উপায় নিয়ে বই প্রকাশ করেছে সিসটেক। বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাক্তি,  বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে স্মার্টফোন এবং তাতে ব্যবহৃত বিভিন্ন অ্যাপস বিষয়ে ব্যপক কৌতুহল রয়েছে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ।
 
অ্যানরয়েড অ্যপস তৈরির জন্য জাভার মতো শক্তিশালী প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এবং গুগলের অ্যানরয়েড অপরেটিং সিস্টেম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এপিআই ও এসডিকে জানার প্রয়োজন হয় বিধায় ইদানিং এই বিষয়গুলোতে দক্ষতা অর্জনের জন্য ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষনগুলোতে ভিড়ও জমাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের উৎসাহী আইসিটিপ্রেমিক থেকে শুরু করে পেশাদার প্রোগ্রামিং এ নিয়োজিত অনেক ব্যাক্তিগণ। কিন্তু প্রোগ্রামিং বেসিক কিংবা জাভা না জেনেও কেবলমাত্র ভিজ্যুয়াল উপায়ে অ্যাপস তৈরির পদ্ধতি নিয়ে দারুন আকর্ষনীয় একটি বই প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের খ্যাতনামা আইসিটি পাব্লিকেশন্স সিসটেক। সদ্য শেষ হওয়া বইমেলার একেবারে শেষ পর্যায়ে প্রকাশিত এই বইটি রচনা করেছেন অটোডেস্ক মায়া, থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স, ইন্টানেটে অর্থ উপার্জন, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন সহ বাংলায় প্রকাশিত দশটির অধিক কমপিউটার বিষয়ক গ্রন্থের লেখক রাজিব আহমেদ।
 
উল্লেখ্য রাজিব আহমেদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তৈরি দেশের প্রথম ত্রিমাত্রিক শুটিং অ্যাকশন গেইম অরুণোদয়ের অগ্নিশিখার ডিজাইনার, যা সম্প্রতি উইকিপিডিয়া কতৃক স্বীকৃত লাভ করে।
 
'প্রোগ্রামিং ছাড়াই অ্যাপস তৈরি' নামক রাজিব আহমেদের এই বইটি মূলত গুগল ও যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি এর যৌথ প্রজেক্ট হিসেবে স্বীকৃত, অ্যাপস তৈরীর ক্লাউড ভিত্তিক অনলাইন ফ্রি টুল, অ্যাপ ইনভেন্টর নিয়ে রচিত। মুলতঃ শিক্ষর্থীসহ, অ্যাপস তৈরিতে ব্যপকভাবে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে গুগল, শিকাগোর ম্যানচেষ্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) কে সাথে নিয়ে পরীক্ষামুলকভাবে এই টুলটি, ২০০৯ সালে প্রথম সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে। বর্তমানে টুলটির ২য় ভার্সনটি চলছে এবং এখন সারবিশ্বের  মোটামুটি ১৯৫টি দেশের প্রায় তিন মিলিয়নের অধিক ব্যবহারকারী টুলটি ব্যবহার করছে।
 
অ্যাপ ইনভেন্টর দিয়ে তৈরি অ্যানরয়েড অ্যাপসের সংখ্যা সাত মিলিয়নেরও অধিক যা মূলতঃ গুগল প্লে সহ বিশ্বের আরও বিভিন্ন জনপ্রিয় অ্যানরয়েড অ্যাপস মার্কেটে রিলিজ পেয়েছে। এই টুলের সাহায্যে অ্যানরয়েড প্রোগ্রামিং এর বিষয়টিকে জটিল টেক্সটভিত্তিক না  রেখে এর পরিবর্তে সম্পূর্ণ ভিজ্যুয়াল পদ্ধতিতে করা হয়, যা কমপিউটার ও মোবাইলে সাধারন দক্ষতা থাকলেই যে কারো পক্ষে আয়ত্ব করা সম্ভব।
 
লেখক বইিটতে পূর্ণাঙ্গ তিনটি প্রজেক্টের মাধ্যমে হাতে কলমে অ্যাপ ইনভেন্টরের বিভিন্ন ফিচারকে সকলের বোধগম্য করে উপস্থাপন করেছেন। ব্যপক বর্ণনামূলক আলোচনা পরিহার করে লেখক মূলতঃ ধাপে ধাপে সুনির্দিষ্ট প্রজেক্টের মাধ্যমে অ্যাপ ইনভেন্টরের ব্যবহার পাঠককে অবহিত করেছেন, যা প্রচলিত আইটি বইগুলোর তুলনায় বেশ সুখপাঠ্য। পাশাপশি পর্যাপ্ত ছবি যুক্ত করায় সাধারন যে কোন মোবাইল ব্যবহারকারীও দেখে দেখে সহজেই কোনো অ্যাপস তৈরি করে তা তার মোবাইলে অ্যাপস হিসেবে রান করিয়ে অ্যাপস তৈরির বিষয়ে উজ্জীবিত হতে পারেন।
 
যেহেতু বইটি অ্যাপ ইনভেন্টরের বেসিক নিয়ে লিখিত তাই অ্যাপ ইনভেন্টর বিষয়ে পাঠককে আরও বিস্তারিত জানার সুযোগ করে দিতে বেশ কিছু গুরত্বপূর্ণ লার্ণিং রিসোর্স ও টিউটোরিয়ালের লিংক প্রদান করা হয়েছে বইয়ে। লেখক এ সংক্রান্ত একটি ফেসবক পেজও (https://www.facebook.com/BdRazib4AppInventor) ওপেন করেছেন যেখানে বইটির বিষয়ে বিভিন্ন আপডেট ও পাঠকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান নিয়মিতভাবে আপলোড করা হয়। এছাড়াও বইটির সাথে বিভিন্ন রিসোর্স সম্বলিত একটি সিডিও বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। বইটি সম্পর্কে লেখক বলেন, 'লেখক হিসেবে বইয়ের শুরুতেই আমি আপনাদের শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে দিচ্ছি যে এই বইটি যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে শেষ করার পর, আপনি চাইলে যে কোন ধরনের কাস্টোমাইজ  এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন তৈরি তা নিজে ব্যবহার করতে পরবেন, যে কারো সাথে তা শেয়ার করতে পারবেন এবং এমনকি অ্যাপসটিকে ফ্রি বা নির্দিষ্ট মুল্যের বিনিময়ে এন্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভলপারদের স্বপ্নের বাজার google play-তে সাবমিট করতে পারবেন।'