পাকস্থলীতে ভরে পাচার হচ্ছে ইয়াবা

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৬, ০৩:১২
আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অফিদফতরে কঠোর নজরদারি ও অভিযানের কারণে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার ধরন পাল্টেছে। এবার মানুষের পাকস্থলিতে করে টেকনাফ থেকে ঢাকায় আনা হচ্ছে ইয়াবার চালান। মৃত্যুকে তোয়াক্কা  না করে টাকার জন্য এ বিপজ্জনক  পন্থায় জড়িয়ে পড়েছে  কয়েকশ’ নারী-পুরুষ। এ তথ্য জানিয়েছে, পাকস্থলিতে করে ইয়াবা বহনের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত রফিকুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম। তাদের দু’জনের পাকস্থলী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের  একটি টিম (ঢাকা মেট্রো ) গত ৪ মার্চ রাজধানীর ফকিরাপুলের একটি হোটেল থেকে তাদের গ্রেফতার করে। একই টিম চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি মতিঝিল এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছিল রোহিঙ্গা নারী মরিয়ম খাতুন এবং মনোয়ারা বেগমকে(২০)। এই দুই নারীর পাকস্থলী থেকেও উদ্ধার করা হয়েছিল ১৮৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেট। জিজ্ঞাসাবাদে তারা একই ধরনের তথ্য জানিয়েছিল। এর আগে চট্টগ্রামে স্টেশনে পাকস্থলিতে করে ইয়াবা পাচারকালে এক পাচারকারী অসুস্থ হয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেট কেটে বের করা হয় ৩৪’শ ইয়াবা ট্যাবলেট।
 
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাকস্থলীতে ইয়াবা বহনকারী রফিকুল ও আমিনুল জানিয়েছে, তারা মূলত ইয়াবার ক্যারিয়ার বা বহনকারী হিসাবে কাজ করে। তারা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবা চালান বহন করে ঢাকায় পৌঁছে দেয়। গত ছয় মাস ধরে তারা এ বিপজ্জনক পেশায় জড়িত। এ সময় তারা ২০টি চালান ঢাকায় পৌঁছে দিয়েছে। তবে এর আগে বিভিন্ন পন্থায় ইয়াবার চালান এনেছে। কিন্তু সব পদ্ধতিই আইন শৃঙ্খলা সদস্যরা জেনে  যাওয়ায় তারা কৌশল পাল্টেছে।
 
তারা জানায়, বিভিন্ন কৌশল ব্যর্থ হবার পর  ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পাকস্থলীতে ইয়াবা বহনের পদ্ধতি আবিষ্কার করে। প্রথমদিকে পাকস্থলীতে করে ইয়াবা বহনে খারাপ লাগলেও এখন তা সহনীয় হয়ে গেছে। পাকস্থলীতে ইয়াবা প্রবেশ করার ব্যাপারে তারা জানায়, ২৫ থেকে ৫০টি ইয়াবা খুব পাতলা পলিথিন দিয়ে মুড়ে (ক্যাপসুলের মত বানিয়ে) পোঁটলা করে। পরে পাকা কলার খণ্ড টুকরার ভেতরে ঢুকিয়ে গিলে গেলে। এ কাজটি করে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে ওঠার সময়। পথিমধ্যে  তারা পানি বা অন্য কোন খাবার গ্রহণ করে না। পরে ঢাকায় পৌঁছে নির্ধারিত হোটেলে ওঠে। পরে প্রচুর পরিমাণ স্যালাইন পানি পান করে। এরপর বাথ রুমে গিয়ে তা বের করে।  পরে নির্ধারিত লোক এসে হোটেল থেকে ইয়াবা চালান গ্রহণ করে। 
 
তারা আরো জানায়, প্রতি চালান বাবদ তারা পেয়ে থাকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। চালান পৌঁছে দেবার পর টেকনাফে গিয়ে তারা এ টাকা গ্রহণ করে। তবে হোটেলে থাকা,ট্রেন বা বাস ভাড়া পরিশোধ করে চালানের মূল মালিক।
 
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর  ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (উত্তর) খোরশেদ আলম বলেন, গ্রেফতারকৃত রফিকুল ইসলামের পাকস্থলী থেকে উদ্ধার করা হয় ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। আর আমিনুল ইসলামের পাকস্থলী থেকে উদ্ধার করা হয় ৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। 
 
তিনি বলেন, প্রাপ্ত্য তথ্য মতে ধারণা করা হয়েছে, পাকস্থলীতে ইয়াবা বহনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে কয়েক’শ নারী-পুরুষ। যারা আগেও টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পন্থায় ইয়াবা বহন করত। তিনি বলেন, এর আগে ফকিরাপুল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল রোহিঙ্গা নারী মরিয়ম খাতুন (২৫) ও মনোয়ারা বেগমকে। তারাও একইভাবে পাকস্থলীতে করে ইয়াবার চালান নিয়ে ঢাকায় আসে। গ্রেফতারকৃতরা সবাই জানিয়েছে, তাদের মতো কয়েক’শ নারী-পুরুষ মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পাকস্থলীতে করে ইয়াবার চালান ঢাকায় পৌঁছে দিচ্ছে।
 
তিনি আরো বলেন, পাকস্থলীতে ইয়াবা পাচারের বিষয়টি প্রধম ধরা পড়ে চট্টগ্রামে। এক ব্যক্তি টেকনাফ থেকে পাকস্থলীতে করে ইয়াবা বহনের সময় চট্টগ্রামে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তার পেট থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৪শ ইয়াবা ট্যাবলেট।  এব্যাপারে তিনি একাধিক চিকিত্সকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা জানিয়েছেন,এভাবে (পাকস্থলীতে) ইয়াবা পাচারে পাচারকারীদের বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।
 

খোরশেদ আলম বলেন, পাকস্থলীতে করে ইয়াবা বহনকারীরা এতোটাই ধূর্ত যে, কে তাদের ইয়াবা দিয়েছে, ঢাকায় কে চালান গ্রহণ করবে, সে ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ। তাদের রিমান্ডে এনে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করেন।