স্পোর্টস রিপোর্টার
শ্রীলঙ্কা দলের কোচের পদ থেকে কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহের বিদায় আসন্ন। অন্তত ক্রিকেট শ্রীলঙ্কার নতুন পদক্ষেপে সেটাই মনে হচ্ছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাশলি সিলভা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের মাঝপথেই দলের প্রধান কোচকে ডেকে পাঠিয়েছে।
যদিও, এর পেছনে কি কারণ সেটা টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে ভেঙে বলা হয়নি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে বোর্ড বিশ্বকাপের আগে দলের প্রস্তুতির ব্যাপারে জানতেই হাতুরুকে দেশে ডেকে পাঠিয়েছে। ওয়ানডে সিরিজের বাকি অংশ ও আসন্ন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলটিকে কোচিং করানোর দায়িত্বটা ফিল্ডিং কোচ স্টিভ রিক্সনকে দেওয়া হয়েছে।
কানাঘুষা আছে, দলের কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে হাতুরুসিংহেকে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পেলেও এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি ওয়ানডেতেই জিতেছে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। শ্রীলঙ্কা দল কার্যত কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারছে না। এই অবস্থায় কোচ পরিবর্তনের পথে হাঁটতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা।
তবে, হাতুরুসিংহে হয়তো চাকরিচ্যুত হবেন না। কারণ তার মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত। এই সময়ের আগে চাকরিচ্যুত করলে চুক্তি ভঙের কারণে বিশাল অঙ্কের জরিমানা গুণতে হবে এসএলসিকে। বাংলাদেশের সাবেক এই কোচকে সেক্ষেত্রে দেশে রেখেই অন্য কোনো কাজ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এসএলসি।
এসএলসির এক কর্মকর্তা ক্রিকেট বিষয়ক গণমাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে জানান, আপাতত হাতুরুসিংহেকে কোচের পদ থেকে কিছু দিনের জন্য বিরতি দিতে চায় বোর্ড। তিনি বলেন, ‘আমরা হাতুরুকে একটা বিরতি দিতে চাই। দেখতে চাই রিক্সন দলটাকে নিয়ে কতদূর কী করতে পারেন!’
গেল ২০১৮ সালের শুরুতে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শ্রীলঙ্কার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ফেলেন হাতুরুসিংহে। এরপর থেকে ৪৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দলটিকে মাত্র ১৬টিতে জয় এনে দিতে পেরেছেন তিনি। এই পরিসংখ্যান কোনোভাবেই ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলটির সাথে যায় না। বরং, হাতুরুসিংহে যোগ দেওয়ার আগের বছর মানে ২০১৭ সালে এর চেয়ে বেশি হারে ম্যাচ জিতেছে শ্রীলঙ্কা। তাই, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হোয়াইটওয়াশ করার ইতিহাস গড়ার পরও কপাল পুড়তে যাচ্ছে এই কোচের।
তবে, হাতুরুসিংহের সমস্যাটা শুধু পারফরম্যান্স কেন্দ্রিক নয়। এসএলসির সূত্র জানিয়েছে দলের কিছু খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সাথেও তার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। আর দেশের বাইরে স্কোয়াড ও একাদশ নির্বাচনে প্রভাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্বাচক প্যানেলের সাথেও তার মুখ দেখাদেখি বন্ধ।
শোনা যায়, দিনেশ চান্দিমালকে বাদ দেওয়া ও পেসার লাসিথ মালিঙ্গাকে ওয়ানডে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও অসন্তুষ্ট ছিলেন হাতুরুসিংহে। বোর্ডের কর্মকর্তা বলেন, ‘বোর্ড এই মুহূর্তে সন্তুষ্ট নয়। এই অসন্তোষটা কেবল মাঠের পারফরম্যান্সের কারণে নয়, কিছু আচরণগত সমস্যাও ছিল। এটা আসলে অনেকদিন ধরেই পাওনা হয়ে ছিল।’
সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কায় কোনো কোচই খুব বেশিদিন টিকছেন না। এই দশকে শ্রীলঙ্কা অন্তর্বর্তীকালীনসহ মোট নয়জন কোচকে নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্যে কেউই দু’বছরের বেশি সময় টেকেনি। দুটি ভিন্ন মেয়াদে সবচেয়ে বেশি সময় টিকেছেন গ্রাহাম ফোর্ড।
