নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইজন খুঁন হয়েছে। একই দিনে দুই যুবকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বন্দরবাসীর মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতরা হলেন-লিখন (৩৫) ও মোহাম্মদ রিয়ন (২৮)। বন্দরে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার বন্দর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী জানায়, বন্দরে চুরি, ডাকাতি,ছিনতাই, রাহাজানি নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। পাশাপাশি ঘটছে খুঁনের ঘটনাও। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ও রাতে খুঁন হয়েছে দুই যুবক। বন্দরে সাধারণ মানুষ এখন রাতে নির্বিঘেœ চলাফেরা করতে ভয় পায় বলে এ প্রতিবেদককে জানান।
অপরদিকে একই দিন রাতে কল্যানদী এলাকায় বাড়ি যাওয়ার পথে দুবৃত্তদের হাতে অস্ত্রের আঘাতে নিহত হয় মোহাম্মদ রিয়ন (২৮)। এছাড়া একই সপ্তাহে বন্দর রূপালী এলাকায় নববধূ সোনিয়া আক্তার ও মদনগঞ্জের আলীনগরের গৃহবধূ রিপা আক্তার খুঁন হয়। মাত্র এক সপ্তাহে চারজনের খুঁনের ঘটনায় সমগ্র বন্দর আতংকের নগরীতে পরিনত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর বন্দর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যেখানে সব সময় মানুষের জমজমাট থাকত সেখানে অনেকটা ফাঁকা অবস্থা। সাধারন মানুষের চোঁখে মুখে ভয় আর আতংকের চিহ্ন দেখা গেছে।
বন্দর থানার অফির্সাস ইনর্চাজ আবুল কালাম জানান. শুক্রবার সকালে কল্যান্দী এলাকা থেকে মোহাম্মদ রিয়ন (২৮) নামের এক যুবক ও গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শান্তিনগর এলাকা হতে লিখন (৩৫) নামের যুবকের লাঁশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত রিয়নের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। রিয়ন সোনারগাঁ উপজেলার নবীনগর এলাকার মোতালেব মিয়ার ছেলে।
তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পাশে রিভারভিউ মার্কেটের বিসমিল্লাহ স্ক্রীন প্রিন্টিং কারখানার কর্মচারী। নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া বন্দর থানার সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) সাইদুর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষ করে সোনারগাঁয়ে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয় রিয়ন। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টায় বন্দর উপজেলার কল্যান্দী এলাকার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে রাস্তার পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও পিটুনিতে নিহত হয় লিখন নামের এক যুবক। আহত হয় হৃদয় ও জামাল নামের অপর দুই যুবক।
নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহৃ রয়েছে। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ ময়না তদন্তের আগে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপর দিকে নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দরে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে চোর আখ্যা দিয়ে লিখন(৩৫)নামে ২ সন্তানের জনককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা এবং হৃদয় (২৭)ও জামাল(৩৩)নামে অপর দু’ যুবককে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে থানার মদনগঞ্জ শান্তিনগর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। আহতদের গুরুতর অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে নিহত লিখনের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এদিকে এ ঘটনার ২ ঘন্টা অতিবাহিত না হতেই পুলিশ হত্যাকান্ডে জড়িত ৩ খুনী যথাক্রমে সানি, টিটু ও সাদ্দামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। খুণীদের দ্রুত গ্রেফতার করায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী থানা পুলিশকে সাধূবাদ জানিয়েছে।
