শিকাগোতে প্রতিরোধের মুখে ট্রাম্পের সমাবেশ পণ্ড

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৬, ১১:৪৮
 
এতদিন ছিল মনে মনে, এবার ধীরে ধীরে প্রকাশ্য হচ্ছে ডোনাল্ডবিরোধী প্রচারণা। আর এর প্রকাশ্য রূপ নিলো ইলিনয় রাজ্যের শিকাগোয়। শুক্রবার ডোনাল্ডবিরোধীরা পণ্ড করে দিয়েছে তার নির্বাচনী সমাবেশ। তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টির কারণে স্থানীয় প্রশাসন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমাবেশ পণ্ড করে দিতে বাধ্য হয়। মার্কিন ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম।
 
জানা গেছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। এই সমাবেশে যোগ দিতে বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হতে থাকে। একইভাবে ডোনাল্ডবিরোধীরা সেখানে জড়ো হয়ে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দুই পক্ষের মাঝামাঝি অবস্থান নেয়। কিন্তু একপর্যায়ে সেন্ট লুইস পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে উভয়পক্ষের মধ্যে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত জখম হয়। একপর্যায়ে সেন্ট লুইস পুলিশের প্রধান নিরাপত্তার অভাবজনিত কারণে দেখিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। রাত ১১টায় এ রিপোর্ট লেথা পর্যন্ত ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
 
বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধের মুখে রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প শিকাগো গেলেও সমাবেশস্থলে যেতে পারেননি। বিক্ষোভকারীরা সমাবেশস্থলের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পয়েন্ট নিজেদের দখলে নেয়। অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় একপর্যায় ট্রাম্পের নির্বাচনী ক্যাম্প থেকে সমাবেশ বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও পক্ষে বিপক্ষে হাজারো মানুষ সেখানে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশ বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে। তবে শিকাগো পুলিশের মুখপাত্র এন্থনি কাউকে গ্রেফতার ও আহত হবার কথা অস্বীকার করেছেন।
 
কে এই ডোনাল্ড ট্রাম্প?
ইদানীং বিতর্কের রাজা বলে খেতাব পেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রামপ। তার জন্ম নিউ ইয়র্কে ১৯৪৬ সালে। বাবা ছিলেন রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ী। তিনি নিজেও এই খাতে সফল। কিন্তু তার রয়েছে হরেক রকম পরিচয়। ব্যবসায়ী ছাড়াও তিনি মিস ইউনিভার্সের সপন্সর ছিলেন দীর্ঘদিন। তাতে তার নামযশ অর্থ বিত্ত হয়েছে অনেক। এপ্রেনটিস্ট নামের একটি রিয়ালিটি টিভি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন। রেসলিং ম্যাচ উপস্থাপনা করেছেন। বেশ কবার নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন তার বেশ সমর্থকও জুটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। মামলা ঠুকেছেন এবং মামলা খেয়েছেন। এখন তার রয়েছে ৫৮ তলা একটি ভবন, স্পোর্টস ক্লাব, শেয়ার বাজারে পুঁজি।
 
সবমিলিয়ে ৯০০ কোটি ডলার সমপরিমাণ সমপদের মালিক। রাজনীতিতে তার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। কিন্তু তবুও যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রামপ। বলা হয় নিজের সমপর্কে প্রচার তিনি খুব ভালভাবে করেন। তাই পাচ্ছেন সেলেব্রিটির মতো মনোযোগ। তবে সেই মনোযোগের সবটাই সুখের নয়। সে দেশে মুসলিম দের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা উচিত এমন বক্তব্য দিয়ে হাততালি যেমন পেয়েছেন আবার ব্যাপক সমালোচিতও হয়েছেন। সমপ্রতি সোমালিয়ার জিহাদি গোষ্ঠী আল-শাবাব তাদের একটি প্রচারণামুলক তথ্যচিত্রে ট্রামেপর এই বক্তব্য জুড়ে দেয়। এর পরও পিছু হটেননি তিনি। বরং উল্টো বলেছেন, দেশের জনগণ তার এই সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করছে কারণ, তার ভাষায়,  সমস্যাটিকে অনেকেই এড়িয়ে গেছেন। প্রতিবন্ধী এক সাংবাদিককে ব্যঙ্গ করে সমালোচিত হয়েছেন। রিপাবলিকান দলের এক নারী রাজনীতিবিদকে কুিসত বলেছেন আবার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের সাথে ঝগড়া করেছেন। প্রায় নিয়মিতই এরকম নানান বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আলোচিত এবং সমালোচিত এমনকি অনেকের হাসির খোরাকও হ”েছন ডোনাল্ড ট্রামপ। মার্কিন কমেডিয়ানরা নিয়মিত তাকে নিয়ে ঠাট্টা করে। এর আগে বেশ কবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্‘ কখনোই শেষ পর্যন্ত দাঁড়ানো হয়নি। তবে এবার বেশ শক্তভাবে এগু”েছন। বিশ্লেষকরা বলছেন ক্ষমতা আর প্রচারে ব্যাপক আগ্রহী ট্রামপ অনেকটাই আত্মপ্রেমী। সেখান থেকেই হয়ত তার প্রেসিডেন্ট হবার স্বপ্ন।