জাপানের ইতিহাসে এক ভয়ংকর দিনের আবির্ভাব হয়েছিল আজ থেকে আরো ৫ বছর আগে। ২০১১ সালের এই দিনে জাপানে এক প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্পে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল গোটা বিশ্ব। সুমদ্র উপকূলে নয় মাত্রার ওই ভূমিকম্পে সৃষ্ট তীব্র সুনামিতে নিহত হয়েছিলেন ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ। যা জাপানবাসীদের ইতিহাসে এক ভয়াবহ স্থৃতি হিসেবে নাড়া দিয়ে যায় এখনো। এই ভয়াবহ দুর্যোগের ৫ম বার্ষিকী পালন করেছে জাপানের জনগন।
শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪৬ মিনিটে ওই ঘটনার স্মরণে নীরবতার মুহূর্ত পালন করেছে জাপানবাসী। এ উপলক্ষে জাপানের টোকিওতে একত্রিত হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ। জাপানের সম্রাট আকিহিতো, সম্রাজ্ঞী মিশিকো এবং প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে প্রত্যেকেই শোকের আনুষ্ঠানিক পোশাকে শোকাবহ এ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে অশ্রুসজল হয়ে পড়েছিল জাপানবাসী। ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া মানুষজন ছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে এ শোকাবহ পরিবেশ তৈরী হয়েছিল হৃদয়বিদারক ভূমিকম্পের স্মৃতিতে।
অনুষ্ঠানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ শোককে জাপানবাসী শক্তিতে পরিনত করবে এমনটাই সবার প্রত্যাশা। এ সময় তিনি গোটা অবকাঠামো সংস্কারে দৃঢ়প্রত্যয় ঘোষণা করেন।
সুনামিতে বিধ্বস্ত ফুকুশিমার পরমাণু কেন্দ্রের আশপাশের এলাকাগুলোকে আরো সুরক্ষিত করে তোলার, ২০২০ সালের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবর্তী রেলপথ আবারো চালু করতে এবং উত্তরাঞ্চলে পর্যটনব্যবস্থা তিনগুণ শক্তিশালী করে তোলার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী আবে।
পর্যটকরা স্বচক্ষে জাপানের বেঁচে ওঠার কঠোর সংগ্রাম দেখতে পাবেন, এমনটাই উদ্দেশ্য জাপান সরকারের বলে মনে করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
