আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) উল্লেখ করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ তেলের উৎপাদন কমিয়েছে। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর ইরান তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ার পরও সে পরিমাণ উৎপাদন বাড়েনি।
২০১৪ সালের জুলাই হতে চলতি বছরের শুরুতে জ্বালানি তেলের দর ৭০ ভাগ কমে ব্যারেল প্রতি হয়েছিল ২৭ ডলারে। বর্তমানে এটি ৪০ ডলারের উপরে রয়েছে।খবর বিবিসি’র।
আইইএ মনে করে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর বাইরের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো চলতি বছর দৈনিক সাড়ে ৭ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন কমাবে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের দৈনিক তেল উৎপাদন হ্রাস করবে ৫ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল। আইইএ মনে করছে এ ধরনের নিদর্শনের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য স্থিতিশীল হয়ে আসবে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদার তুলনা উৎপাদন বেশি হওয়ায় ২০১৪ সালের শেষ থেকে নামতে থাকে জ্বালানি তেলের দাম। এ সময়কালে চীনের তেলের চাহিদাও কমে যায়। বিশ্বের দ্বিতীয় বড় অর্থনীতি দেশ চীনের অর্থনীতির গতি মন্থর হয়ে যাওয়া এর বড় কারণ।
এ সময় বেশিরভাগ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমতে থাকে ব্যাপক হারে। নতুন বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকে প্রতিষ্ঠানগুলো। গত ১৮ মাসে শুধু নর্থ সি অয়েল ইন্ডাস্ট্রির কর্মী ছাটাই হয় প্রায় ৫ হাজার। গত জানুয়ারি মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। তবে তেলের বড় উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরব এবং রাশিয়া তেল উত্তোলন না বাড়ানোর ঘোষণায় ৪০ ডলারে উঠে আসে তেলের দাম।
শুক্রবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৪০ ডলার ৭৯ সেন্ট। আইইএ উল্লেখ করেছে, ওপেকভুক্ত দেশগুলো গেলো ফেব্রুয়ারি মাসে দৈনিক ৯০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন কমিয়েছে। শুধু নাইজেরিয়া, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত কমিয়েছে দৈনিক সাড়ে ৩ লাখ ব্যারেল।
এদিকে তেলের চাহিদাও সম্প্রতি বেড়েছে। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তেলের চাহিদা ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল বলে জানা যায়। এবছরের শেষ দিকে তেলের দাম আরো কিছুটা বাড়তে পারে। চীন ও ভারতের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে তেলের চাহিদাও বাড়বে। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের ভোক্তা দেশ যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা থাকবে সমান। এসব বিবেচনায় আইইএ মনে করছে শিগগিরই জ্বালানি তেলের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে।
