এমপি রিমনের বিরুদ্ধে ইসির মামলার নির্দেশ

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৬, ২১:৩১
বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে মামলা করতে বরগুনা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 
 
রবিবার ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব মো. সামসুল আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে আচরণ বিধি ভঙ্গের কারণে এমপি রিমনের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দেয়া হয়।
 
ওই চিঠিতে বলা হয়, বিধিভঙ্গ করে সংসদ সদস্য রিমন গত ৫ মার্চ বেতাগী উপজেলার ২ নং কিসমত ভোলানাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কেওড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জনসভা করেন। পল্লিবিদ্যুত্ কেন্দ্র উদ্বোধনের নামে আয়োজিত ওই জনসভায় এমপির পছন্দের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়াও এমপি রিমন প্রার্থীদের মঞ্চে তুলে তাদের পক্ষে ভোট চান। যা ইউপি নির্বাচনী আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লংঘন। এজন্য নির্বাচন কমিশন ওই সংসদ সদস্যর বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বরগুনার পুলিশ সুপারকে দ্রুত মামলা করে কমিশনকে অবগত করার জন্য ওই চিঠিতে বলা হয়েছে। এর আগে গত ২রা মার্চ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের কারণে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আলিমের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য ফেনী পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। একইভাবে ওই চেয়ারম্যান বরখাস্তের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়। এর  প্রেক্ষিতে গত ৪ মার্চ ওই চেয়ারম্যানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। গত ৬ মার্চ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ওই উপজেলা চেয়ারম্যানকে সাময়িক বহিষ্কার করে। 
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সচিব মো. সামসুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, এই প্রথম কোন সংসদ সদস্যর বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে মামলা করার চিঠি বরগুনা পুলিশ সুপারের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। 
 
ইসির সংশ্লিষ্টরা বলেন, ২২ মার্চ অনুষ্ঠেয় প্রথমধাপের ইউপি নির্বাচনে নানাভাবে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের জিতিয়ে আনার জন্য প্রভাব বিস্তার করেন। একইভাবে রিমন দলীয় কার্যালয়ে বসে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে ইসি সচিবালয় তার বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে। এর আগে পৌরসভা নির্বাচনেও সংসদ সদস্য রিমনকে আচরণবিধি লংঘনের কারণে ইসি শোকজ (কারণ দর্শানোর) নোটিশ দেয়। জবাবে এমপি রিমনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে দু:খ প্রকাশ করা হয় এবং তিনি সশরীরে কমিশনে গিয়ে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটানোর বিষয়ে অঙ্গীকার করে আসেন।
 
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী এমপিরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না এবং সরকারি কোনো প্রকল্প উদ্বোধন করতে পারবেন না। আইনানুযায়ী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার শাস্তির বিধান রয়েছে।