জাবিতে কিছুতেই থামছে না র‌্যাগিং

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৬, ১৯:৪৯
অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করা, কান ধরে উঠ-বস করা, দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা, একজনকে দিয়ে আরেকজনকে চড় থাপ্পড় মারা এরকম এমন কোনো শারীরিক নির্যাতন নেই যা আমাদের করা হয় না। কোনো কারণ ছাড়াই আদব-কায়দা শেখানোর নামে আমাদের ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। এভাবেই শারীরিক নির্যাতন (র‌্যাগ)-এর বর্ণনা দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগ ও হলে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের দ্বারা এমন নির্যাতনের শিকার হন নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা। তবে রাতের বেলা হলের গেস্টরুম ও গণরুমে এমন র‌্যাগিং বেশি লক্ষ্য করা যায়। যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী  র‌্যাগিং সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
 
গত রবিবার রাতেও মীর মোশাররফ হলের গণরুমে র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন রসায়ন বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম অনিক। সিনিয়র শিক্ষার্থী কতৃক হলের গণরুমে শতাধিক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে অনিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তার সহপাঠীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা দেন। অনেকেই আবার এমন র‌্যাগিং সহ্য করতে না পেরে ক্যম্পাস ছেড়েও চলে যাচ্ছেন।
 
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে  বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং সম্পূর্ণ  নিষিদ্ধ করে পোস্টারিং করা হয়। এছাড়া র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ অনুযায়ী আজীবন বহিষ্কারের বিধানসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিযুক্তকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করারও বিধান রয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও হল প্রশাসনের কোন র‌্যাগিং বিরোধী কার্যক্রম দেখা যায়নি। অথচ বেশির ভাগ র‌্যাগিং রাত ১০টার পরে হলের গণরুম বা গেস্ট রুমে হয়ে থাকে। র‌্যাগিং চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা হলের দায়িত্বরত শিক্ষকদের জানালেও তারা হলের র‌্যাগিং থামাতে নিরুপায় বলে জানানোর অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে তারা শিক্ষার্থীদের এমনটিও বলেন যে, আমরা হলের গণ রুমে গিয়ে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হতে চাইনা। এদিকে গত শুক্রবার রাতে গণরুমে নতুন শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান। যার কারণে শিক্ষকরাও এখন গণরুমে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। IMG0
 
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি সৈয়দ হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা এ বিষয়ে কয়েকবার মিটিং করেছি এবং প্রতিটি হলের প্রভোস্টকে তার হলের গণরুমের র‌্যাগিয়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রভোস্ট লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে রিপোর্ট দিলেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
এদিকে সোমবার র‌্যাগিংয়ের প্রতিবাদে ভিসির কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। বেলা পৌনে এগারটা থেকে শুরু হয়ে বেলা বারটা পর্যন্ত চলে এ মানববন্ধন। মানববন্ধন শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল ভিসির সঙ্গে দেখা করে র‌্যাগিং বন্ধে অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান।