একতারার সুরে নির্বাচনী প্রচার

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৬, ২০:৫৩
ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেমে নিত্য নতুন শিল্পীদের আধিপত্যে হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য একতারা হাতে বাউল শিল্পীদের পল্লী গাঁথা গান। কালের বিবর্তনে বাউল শিল্পীদের গান ও গীতি কবিতা কুমিল্লা অঞ্চলে নেই বললেই চলে। ওই বাউল শিল্পীদের কদর দিনের পর দিন বিলুপ্ত হতে থাকায় তাদের জীবন-জীবিকায় ধস নেমেছে।
 
তবে বিশেষ কিছু সময়ে তাদের কদর এখনো রয়েছে। আর নির্বাচন আসলেই প্রার্থীদের কাছে তাদের কদর বেড়ে যায়। যে অঞ্চলে নির্বাচন শুরু হয় ওই অঞ্চলে একতারা ও দোতরা হাতে ছুটে যায় ওই বাউল শিল্পীরা। প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকের সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে নানা রকম মুখরোচক গানে গানে ঘুরে বেড়ান নির্বাচনী এলাকা।
 
সোমবার বিকেলে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়নের আছাদনগর এলাকায় একতারা হাতে নেচে গেয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক মেম্বার প্রার্থীর ফুটবল প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারণা করতে দেখা গেছে এক বাউল শিল্পীকে।
 
ওই ইউনিয়নের ভানী গ্রামের আব্দুল মান্নান বয়াতি শুধু তার নিজ এলাকায় নয়। প্রতিদিন এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়ন ছুটে বেড়ান বিভিন্ন প্রার্থীর সন্ধানে। কখনো চুক্তি করে গান করেন কয়েক ঘণ্টা বা দিন। আবার কখনো কোন প্রার্থীর সামানে পৌঁছেই তার নাম ও প্রতীকে ছন্দ মিলিয়ে নানা রকম গান গেয়ে মাতিয়ে তুলেন। প্রার্থীর সন্তুষ্টি অর্জনে যা বকশিস পান তাতেই সন্তুষ্ট থাকেন।
 
এদিকে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার নির্বাচনী মাঠ। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিং প্রচারণা করলেও বিভিন্ন কৌশলে তাদের প্রচারণা চলছে সকাল থেকে রাত অবধি।
 
উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩টি ইউনিয়নের তফসিল ঘোষণায় ২২ মার্চ ভোট গ্রহণকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান প্রার্থী থেকে শুরু করে সংরক্ষিত নারী ও সাধারণ ওয়ার্ড মেম্বার পদের প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।