হিজবুত তওহীদ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ

হিজবুত তওহীদের বিরুদ্ধে তিন মামলা, ১১১জন কারাগারে

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৬, ২১:৫১
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর চাষিরহাট ইউনিয়নের পোরকরা গ্রামে সোমবার দিনভর হিজবুত তওহীদ ও গ্রামবাসীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর জনরোষ থেকে হিজবুত তওহীদের অনুসারী ৩ শিশু ও ৬ মহিলাসহ ১১৭ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে শিশুদের বাদ দিয়ে ১১৪ জনকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জনকে পুলিশ পাহারায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অপর ১১১জনকে মঙ্গলবার দুপুরে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের জামিন না-মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রায় একশ জন অন্য জেলার বাসিন্দা। 
 
এ দিকে সোমবারের সহিংস ঘটনায় নিহত তিন ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে হিজবুত তওহীদ অনুসারী নিহত ইব্রাহিম খান রুবেলের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরে ও সোলেমানের বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানায় এবং অপর নিহত মজিবুল হক মজিব স্থানীয় চাষির হাটের খোদখাস্তা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন মাটি কাটা শ্রমিক।
 
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুজ্জামান জানান, পুলিশের ওপর হামলা, হত্যা, সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আলাদা তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই দিনের সহিংস ঘটনার সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হয়ে ১২৪১ রাউন্ড রাবার বুলেট, ২০৬ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, চাইনিজ রাইফেলের ১২ রাউন্ড গুলি, পিস্তলের ২১ রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৬ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে।
 
মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এইচএম ইব্রাহিম। চাষিরহাট ইউপি পরিষদের সামনে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগের সভাপতি মমিনুল ইসলাম বাকের, সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. রহিমা খাতুন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক কামাল, সাবেক চেয়ারম্যান আ.ফ.ম বাবুল সোনাইমুড়ী পৌর মোতাহের হোসেন মানিক প্রমুখ।
 
হিজবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন 
 
সোনাইমুড়ী উপজেলার পোরকরা গ্রামে হেফাজতে ইসলাম, জামায়াত ও স্থানীয় এক নেতার ইন্ধনে নিরস্ত্র হিজবুত তওহীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের তিন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে হিজবুত তওহীদ। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার ও ফাঁসি দাবি করেছেন তারা। 
 
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে হিজবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর মেয়ে রুফায়দাহ পন্নী এই দাবি করেন।
 
সম্মেলনে রুফায়দাহ জানান, ১৯৯৫ সালে টাঙ্গাইলে তার বাবা হিজবুত তওহীদ নামের অরাজনৈতিক সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। বাবার মৃত্যুর পর এর দায়িত্ব নেন তার স্বামী মোহাম্মদ সেলিম। তার স্বামী কয়েক দিন আগে সোনাইমুড়ীতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি তার নিজ বাড়িতে একটি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কিন্তু স্থানীয় অন্যসব মসজিদের ইমামরা মানুষকে মসজিদ সম্পর্কে ভুল তথ্য দেন। অপপ্রচার চালিয়ে তারা গ্রামবাসীকে খেপিয়ে তোলেন। এতে ইন্ধন জুগিয়েছেন হেফাজত, জামায়াত ও স্থানীয় বামপন্থী দলের এক নেতা। পুলিশের সামনেই তার স্বামীর বাড়িতে বর্বরোচিত ও পৈশাচিক ঘটনা ঘটানো হয়। সেখানে তাদের তিন কর্মীকে গলা কেটে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।