বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানকে নিরাপদ ভাবা হচ্ছে না কেন?

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৯, ২২:১৫

 

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন ম্যাক্স এইট বিমান বিধ্বস্ত হবার পর অনেক বিমান সংস্থা এ উড়োজাহাজটি ওড়ানো বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ করেছিলেন এর প্রযুক্তিতে কোনো ত্রুটি আছে। তখন বোয়িং কোম্পানি বলেছিল, তাদের বিমান পুরোপুরি নিরাপদ। কিন্তু যে মার্কিন সংস্থা নতুন কোনো বিমান নিরাপদ কি-না, তার সার্টিফিকেট দেয়, সেই ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন এফএএ এখন এক জরুরি আদেশে এ বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন ম্যাক্স ওড়ানো নিষিদ্ধ করেছে।

সংস্থাটি বলছে, নতুন কিছু তথ্য-প্রমাণ ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করার পরই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর বোয়িং কোম্পানির সম্ভবত আর কিছু করার ছিল না। কোম্পানিটি তাদের যে মোট ৩৭১টি বিমান উড়ছে, তার সবগুলোকেই ‘গ্রাউন্ডেড’ করে দিয়েছে। গত অক্টোবর মাসে বিধ্বস্ত হয় ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের বিমান, আর তার মাত্র পাঁচ মাস পরেই ইথিওপিয়ার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুটিই ছিল বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন ম্যাক্স এইট বিমান। খবর বিবিসি বাংলার।

এফএএ বলেছে, দুটি দুর্ঘটনা যেভাবে ঘটেছে তার মধ্যে বেশ কিছু মিল দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের সন্দেহের তীর বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন ম্যাক্সে বসানো ‘অ্যান্টি-স্টলিং সিস্টেম’ এর দিকে। এ স্বয়ংক্রিয় অ্যান্টি-স্টলিং সিস্টেম একটি নতুন প্রযুক্তি, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে বিমানটি যাতে উপর দিকে ওঠার সময় হঠাত্ থেমে না যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পাইলট ইতোমধ্যে অভিযোগ করেছেন, টেকঅফের সময় সেভেন থ্রি সেভেন ম্যাক্স বিমানটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। তারা যে ধরনের সমস্যার কথা বলেছেন, তার সাথে ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ার বিমানটি বিধ্বস্ত হবার সময় যা ঘটেছিল তার অনেক মিল আছে। অভিযোগকারী আমেরিকান পাইলটরা বলছেন, অ্যান্টি-স্টলিং সিস্টেমটা সক্রিয় হলেই তা বিমানটির নাক নিচের দিকে নামিয়ে দিচ্ছে। এফএএ বলছে, ইথিওিপিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানটির গতিপথের সাথে এর আগে বিধ্বস্ত হওয়া ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের বিমানটির গতিপথের ব্যাপক মিল দেখা যাচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, দুটি দুর্ঘটনার যে মিল তা কোনো আকস্মিক ব্যাপার নয়।