গত বছর মার্চে সিলেটের অনেক চা-বাগানে রুক্ষতা থাকলেও এবার ব্যতিক্রম। এ বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চের বৃষ্টি বাগানে বাগানে সজীবতা এনে দিয়েছে। শীতে পাতা ঝরা চা-গাছ বৃষ্টির স্পর্শে এখন সবুজ। ফলে মার্চেই শুরু হয়েছে ‘চা-চয়ন’ বা চা-পাতা তোলার কার্যক্রম। উত্সবমুখর পরিবেশে সব বাগানের মালিরা চা-পাতা তুলছেন। এ কার্যক্রম চলবে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এ দিকে নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে ২০১৮ সালে চায়ের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে দেশে ৯৭ লাখ ১০ হাজার কেজি চা বেশি উত্পাদন হয়। এ সময় উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাত কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার কেজি। মৌসুমের শেষ দিকে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে চা চাষের উপযোগী সুষম বৃষ্টি হওয়ায় বছর শেষে চা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। মৌসুমের শুরুতে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ-২০১৮) অনাবৃষ্টির কারণে উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে বেশ শঙ্কিত ছিলেন বাগান মালিকরা। তখন উত্পাদন মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় চা-পাতা চয়ন সময়মতো শুরু করা যায়নি। আগের বছর ২০১৭ সালে উত্পাদন হয় সাত কোটি ৮৯ লাখ কেজি। ২০১৬ সালের মোট উত্পাদন ছিল আট কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার কেজি। এটি ছিল দেশে চা শিল্পের ১৬২ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উত্পাদন। তখন বছরজুড়ে চা চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় ছিল।
এবার শেষ ফেব্রুয়ারির হালকা বৃষ্টিকে বাগান সংশ্লিষ্টরা অনেকটা ‘আশীর্বাদ’ হিসাবেই গ্রহণ করে স্বস্তি বোধ করছেন। যদিও এ বৃষ্টি স্থায়ী নয় কিন্তু চা-এর কুঁড়ি বের হওয়ার জন্য অনুকূল। এমন অবস্থায় ‘রেড স্পাইডার’র আক্রমণের আশঙ্কা দূর হয়’— এমন মন্তব্য করেন বাগান মালিকরা। যৌবনপ্রাপ্ত বাগানের চেহারা দেখে শ্রমিকরাও মহাখুশি। বাগানে বাগানে কচি কুঁড়ি তোলার অপরূপ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে এখন।
শ্রীমঙ্গলে চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট (পিডিইউ) সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে চা শিল্পের উন্নয়নে নেওয়া কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চা চাষের আওতা বাড়ানো হয়। পিডিইউ পরিচালক ড. এ কে এম রফিকুল হক বলেন, চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) বিভিন্ন উপকেন্দ্রে ক্ষুদ্র পর্যায়ে চা চাষিদের জন্য ক্ষুদ্রায়তন চা আবাদ, প্লাকিং, রোগবালাই ও পোকামাকড় দমন বিষয়ে এবং দেশের টি প্লান্টারদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রথাগত পন্থা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে উত্পাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে। বিটিআরআই পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, চায়ের আবাদ বাড়াতে বিটিআরআই থেকে সবরকম সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, চা শিল্পে অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, অনুকূল আবহাওয়া এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিকদের আন্তরিকতায় উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।
