শেষ ফাগুনের ঘন কুয়াশায় ব্যস্ততম পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি-লঞ্চ, কার্গোসহ নৌযান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। গত তিন দিনে প্রায় ১১ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় আটকে পড়েছে বিভিন্ন ধরনের সহস াধিক যানবাহন। আটকে পড়া এ সব যানবাহনের শ্রমিক ও যাত্রীসাধারণ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
ফেরি কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিসি আরিচা আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, বহরের ছোট-বড় ১৭টি ফেরির মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দু’একটি সাময়িক বন্ধ থাকলেও বাকিগুলো নিরলসভাবে যানবাহন পারাপারে কাজ করছে। কুয়াশার কারণে ১১ ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস বন্ধ ও টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি থাকায় এ রুটে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে উভয় ঘাট এলাকায় সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, গতকাল শুক্রবার বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাটুরিয়া প্রান্তে ৩ শ ও দৌলতদিয়া প্রান্তে আড়াইশ শ পণ্যবাহী ট্রাক পারের অপেক্ষায় আটকে আছে বলে ফেরি কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও মূলত এর সংখ্যা দ্বিগুণ বলে জানা গেছে। বহরের ১৭টি ফেরির মধ্যে শাহ্-মুখদুম ও শাপলা শালুক নামে দু’টি ফেরি বিকল থাকলেও বাকি ফেরিগুলো যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে। যাত্রীবাহী পরিবহন, শিশু খাদ্যসহ কাঁচামাল ভর্তি যানবাহন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করায় সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাকের সিরিয়াল ক্রমশ বৃদ্ধি হচ্ছে।
পারের অপেক্ষায় আটকে থাকা ট্রাক চালকদের অভিযোগ, অগ্রাধিকারের নামে যাত্রীবাহী পরিবহন পারাপার করায় সাধারণ পণ্যবাহী একটি ট্রাককে দু থেকে তিন দিন যাবত্ অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এ সুযোগে ঘাট কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ট্রাকের সিরিয়ালসহ আরও কিছু অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, সিরিয়াল কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা কর্তা ব্যক্তিদের চাহিদানুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ না গুনলে এ রুটের ফেরিতে কোনো ট্রাক পারাপার সম্ভব না। তবে, দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা এ সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।
