সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) শিক্ষক প্রক্টর আবদুল বাসেতকে লাঞ্চনার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫ জন শিক্ষক ও ১২ জন কর্মচারীসহ মোট ৬৭ জন পদত্যাগ করেছেন।
তারা বুধবার সন্ধ্যায় উপাচার্য বরাবরে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। ঘটনার জের ধরে শিক্ষকরা বুধবার ক্লাস বর্জন শুরু করেছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ক্লাস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
এদিকে সিকৃবির উপাচার্য মো. গোলাম শাহি আলম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শিগগিরই সমস্যার সমাধান করা হবে।
সূত্র মতে সিকৃবিতে ২৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম শোয়েব ও প্রক্টর মো. আবদুল বাছেতকে লাঞ্চিত করেন। অপর একটি সূত্র জানায় এ সময় প্রক্টর বাছেত রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম শোয়েবকে লাঞ্ছিত করেন। তখন শোয়েব চড়াও হন প্রক্টরের উপর। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার রাত ৩টা পর্যন্ত উত্তেজনা বিরাজ করে।
পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের হস্তক্ষেপে রাতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। কিন্তু বুধবার সকাল থেকে উভয় পক্ষ ফের ক্যাপাসে অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রেজিস্ট্রার শোয়েবের অপসারণের দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেন শিক্ষকরা। সন্ধ্যায় প্রক্টরের পক্ষে রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫ জন শিক্ষক ও ১২ জন কর্মচারী পদত্যাগ করেন। এর আগে তারা বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে রেজিস্ট্ররের পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেন। অন্যদিকে প্রক্টর বাছেতেরও বহিষ্কারের দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা। এ দাবিতে তারাও উপাচার্য বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন বলে সূত্র জানায়।
