‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ ও স্বাধীনতা’ শীর্ষক গোলটেবিল

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৯, ২২:২৪

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুলের পরিবার পাকিস্তানপন্থি বিহারি এবং তিনি একজন রাজাকার বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। গতকাল শুক্রবার ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ ও স্বাধীনতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন। জাগো বাংলা ফাউন্ডেশন জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে এ  গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। 

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, আসিফ নজরুল কিন্তু বিহারি বাবার সন্তান। অনেক বিহারি কিন্তু আমাদের সঙ্গে ছিলেন, আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু আসিফ নজরুলের পরিবার কিন্তু সেই বিহারি নন। তার পরিবার পাকিস্তানপwন্থ বিহারি। তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক এরশাদুল বারী তিনি আরেকজন রাজাকার। তার সহায়তায় আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেন এবং শিক্ষকতা করার সুযোগ পেয়েছে। আসিফ নজরুল একজন রাজাকার।

গোলটেবিল বৈঠকে আলোচক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, বঙ্গবন্ধুর কঠিন সংগ্রামে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। কারো বাঁশির হুইস?লে এ দেশ স্বাধীন হয়নি। সেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যারা কটূক্তি করে, হাজার চেষ্টা করলেও তাদের এ কটূক্তি থেকে বিরত রাখতে পারবেন না। এদের থেকে আমাদের সবসময় দূরে থাকতে হবে।

সমপ্রীতি বাংলাদেশ’র আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা। এর মধ্যেই নিহিত ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা। এ ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক নির্দেশনার পাশাপাশি যুদ্ধের নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। এটা নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিত।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘বাঙালি, বঙ্গবন্ধু এমনকি বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করতে কোমর বেঁধে তারা মাঠে নামে। বাঙালিকে কলমের খোঁচায় বাংলাদেশি করে ফেলা, পাকিস্তানি আদলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ প্রচলন করা এবং স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্কটি বেগবাগ করে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে ম্লানের প্রয়াস তারা চালায়। 

তিনি আরও বলেন, চুটিয়ে প্রচার করা হয় যে, জিয়াউর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে জাতি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু জিয়ার জীবদ্দশায় বিতর্কটি জমেনি। ইতিহাস ও জিয়ার লিখিত স্বীকারোক্তিকে অস্বীকার করা যায়নি বলে বাড়াবাড়িটা মাত্রা ছাড়ায়নি। খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় তারা ২৭ মার্চকে ২৬ মার্চ বানিয়ে বসে।

গোলটেবিল বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মো. আলী শিকদার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।