বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবসের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে মেহেরপুরে-মুজিবনগর সড়কে বাস-নসিমন সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতরা সবাই যুবলীগ কর্মী।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপুর মর্গে লাশের ময়না তদন্ত শুরু হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার রাতে মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কের চকশ্যামনগরে পাবনার একটি স্কুল পিকনিকের বাস ও যুবলীগ বহনকারী ন্থানীয় নসিমন মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সমাবেশ শেষে মেহেরপুর থেকে নসিমনে চেপে ১৫ যুবলীগ কর্মী মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে মুজিবনগর আম্রকাননে আসা পাবনা জেলার কৌসিক পরিবহন একটি স্কুল পিকনিকের বাস পাবনা ফিরছিল। চকম্যামনগর গ্রামে ওই বাসের সঙ্গে মুখোমখি সংঘর্ষ হয় নসিমনটির। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলে একজন, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে দুইজন এবং হাসপাতালে একজন মারা যান। তারা হলেন তুফান (৪০), নজরুল (৩৫) টুকু (৩৫) ও আনিস (৪৩)। এদের সবার বাড়ি মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামে।
এ ঘটনায় আহত হন ১১ জন। তাদের মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পাঁচজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদের কুষ্টিয়া ও রাজশাহীতে স্থানান্তর করেন।
পরে রাজশাহীতে নেয়ার পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নাটোর শহরে সোহরাব নামে একজন এবং রাত ১০টা ৪০ মিনিটে রাজশাহীর পুঠিয়ায় মিঠু নামে আরকেজন মারা যান। সোহরাবের বাবার নাম জান মোহাম্মদ এবং মিঠুর বাবার নাম কটা। এদের দুইজনের বাড়িও মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামে।
মেহেরপুর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশান জানান, নিহতরা সবাই যুবলীগের কর্মী।
এদিকে দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা পিকনিকের বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে বাসের যাত্রীরা কেউ হতাহত হয়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভায় এবং মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।
মেহেরপুর সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মোস্তাফিজুর রহমান হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
