প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁধার ও পর্যটন খ্যাত সিলেট অঞ্চলে কি শীত কি বর্ষা সব মৌসুমেই পর্যটকদের ভিড় লেগেই আছে। কিন্তু এসব সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থানগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলনের ফলে। বিশেষ করে অবৈধ বোমা মেশিনের মাধ্যমে মাটির গহীন থেকে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় কতদিন সিলেটের প্রকৃতি কন্যা জাফলং, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জ, উত্মাসহ বিভিন্ন স্পট টিকে থাকতে পারবে এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এমনিতেই সিলেট ভূমিকম্প জোন। তার উপর জলবায়ুর ঝুঁকিতেও রয়েছে। এ অবস্থায় পাহাড়-টিলা কেটে এমনকি নদীর তলদেশ থেকেও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে ‘অবৈধ বোমা মেশিন’ দিয়ে। কোনো অবস্থাতেই যেন বোমা মেশিন বন্ধ করা যাচ্ছে না। মাঝে-মধ্যে অভিযান হয়। তবুও থামছে না প্রকৃতি বিনাশী বোমা মেশিন।
৮০‘র দশকেও সিলেটের জাফলংসহ বিভিন্ন এলাকা ছিল পরিবেশবান্ধব। এখন এসব স্থানে সুনসান নিরবতাতো নেই বরং ধু-ধু বালুর রাজ্য। পর্যটকরা হন অতিষ্ঠ। বিশেষ করে জাফলং, ভোলাগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের ধোপাজান, ফাজিলপুর বালি পাথর মহালসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা মাটির গহীন থেকে এবং পাহাড় কেটে নদীর তীর ধসিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু ও পাথর আহরণ চলছেই। গত কয়েক দশকে এসব এলাকার সবুজ প্রকৃতি হারিয়ে গেছে। আর এ সংকট ত্বরান্বিত করছে অবৈধ ‘বোমা মেশিন’। ফলে সিলেটে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সিলেটের মনোরম পর্যটন স্পটগুলো।
সিলেটের ভোলাগঞ্জ দেশের সর্ববৃহত্ পাথর কোয়ারী। চারপাশে নয়নাভিরাম দৃশ্য পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় স্থান। কিন্তু সব হারিয়ে যাচ্ছে পাথর খেকুদের কারণে। মাটির ৬০-৭০ ফুট নিচ থেকে ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে শত শত গর্ত করে পাথর উঠানো হয়। দেড় যুগ আগেও কোম্পানীগঞ্জে বহমান নদী, পাহাড়, ঝর্ণা এবং নয়ন জুড়ানো ফসলি জমি ছিল। কমলালেবুর মনোহর বাগ ছিল। বন্য প্রাণীরা ঘুরতো মনের আনন্দে। ধলাই-পিয়ান পাহাড়ী নদীর স্ফটিক স্বচ্ছ পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বিচরণ ছিল। এখন সেখানে প্রকৃতি রুক্ষ।
