খুলনায় চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, দম্পতি গ্রেফতার

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৬, ১৭:০০
খুলনা জেনারেল হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া দু'দিন বয়সী নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে নগরীর শান্তিধাম মোড়স্থ মেডিপ্যাথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে সদর থানা পুলিশ ওই নবজাতককে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত নাসিমা বেগম শাবানা (৩৫) ও তার স্বামী মান্নান জমাদ্দারকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে, চুরির মাত্র এক দিনের ব্যবধানে নবজাতক উদ্ধার হওয়ায় তার মা-বাবা ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
 
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নবজাতককে চুরির পর নাসিমা বেগম শাবানা ও তার স্বামী মান্নান জমাদ্দার তাকে নগরীর শান্তিধাম মোড়স্থ মেডিপ্যাথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করেন।সিজারিয়ান অপারেশনে প্রসব হওয়ার পর নবজাতকটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে- জানিয়ে সেখানে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু ওই দম্পতির আচরণে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার নাসির উদ্দিনের সন্দেহ হলে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ নবজাতকের পিতাকে সঙ্গে নিয়ে শিশুটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত দম্পতির বাড়ি বরিশাল জেলা সদরের আমতলা পালপাড়া গ্রামে। তবে তারা রূপসা উপজেলার আইচগাতী গ্রামে বসবাস করেন।
 
মেডিপ্যাথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার নাসির উদ্দিন বলেন, জেনারেল হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ায় তারা অবগত ছিলেন। এরই মধ্যে এই দম্পতি নবজাতকটিকে নিয়ে আসায় তাদের আচরণে সন্দেহ দেখা দেয়। এ কারণেই তিনি পুলিশকে খবর দেন। 
 
উল্লেখ্য, রূপসা উপজেলার নন্দনপুর এলাকার দিনমজুর ইদ্রিস আলীর স্ত্রী সানজিদা বেগম গত ১৫ মার্চ সকালে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে জমজ ছেলে ও মেয়ে সন্তান প্রসব করেন। দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে হাসপাতালের দোতলার লেবার ওয়ার্ডে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে দোতলার লেবার ওয়ার্ড থেকে জমজ নবজাতকের ছেলেটি চুরি হয়। এ ঘটনা তদন্তের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এছাড়া শিশুর পিতা ইদ্রিস শেখ বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।