করদাতা বাড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রাজধানীসহ সিটি করপোরেশন ও জেলার বাইরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে থাকা উপজেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশব্যাপী বর্তমানে ৮২টি উপজেলায় আয়কর অফিস আছে। এটি আরো অন্তত ২শ’ উপজেলায় বিস্তৃত করতে চায় কর বিভাগ। সবমিলিয়ে ৮২ উপজেলা থেকে এই সংখ্যা পৌনে তিনশ’তে উন্নীত করতে চায় কর বিভাগ। এছাড়া ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের ন্যায় কর বিভাগেও গোয়েন্দা বিভাগ চালু করা, উেস কর আদায় ব্যবস্থাপনাকে যুগোপযোগী করতে আলাদা বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপন, অনলাইন ট্যাক্স ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
এছাড়া বহুজাতিক কোম্পানির কাছ থেকে যথাযথ কর আদায় ও ট্রান্সফার প্রাইসিং ব্যবস্থা তদারকির লক্ষ্যে বিশেষায়িত ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্স ইউনিটসহ বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত সপ্তাহে একটি প্রস্তাব সম্বলিত প্রতিবেদন এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যমান করদাতা ও আয়কর আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যে কর কাঠামোয় সংস্কারের জন্য এনবিআর সদস্য আলমগীর হোসেনকে প্রধান করে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এনবিআর। কমিটি গত বুধবার বেশ কয়েকটি সুপারিশসহ ওই প্রতিবেদন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার কাছে জমা দিয়েছে। যোগাযোগ করা হলে কমিটির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, যাদের করযোগ্য আয় আছে, তাদের চিহ্নিত করে কর আদায় করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছি আমরা। এ জন্য আধুনিক কর প্রশাসন প্রয়োজন। উপজেলা পর্যায়ে কর অফিস বিস্তৃত করা হলে করযোগ্য ব্যক্তিদের করের আওতায় আনা সহজ হবে। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের ন্যায় কর কাঠামোকে শক্তিশালী, অনলাইনভিত্তিক করা তথা কর ফাঁকি রোধে যা করা প্রয়োজন, আমরা প্রস্তাবে তা তুলে ধরেছি।
সূত্র জানায়, নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কর হার বাড়ানোর চাইতে করের আওতা বাড়াতে এনবিআরকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে কর প্রশাসনকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়ারও নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী জুনে বাজেট ঘোষণাকালে অর্থমন্ত্রী কর বিভাগের সংস্কার ও সম্প্রসারণের এ ঘোষণা দিতে পারেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনবিআরের হিসাবে, বর্তমানে দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীর (ই-টিআইএন) সংখ্যা ৩৬ লাখের কিছু বেশি। এর মধ্যে গত তিন বছরেই নতুন করে করের খাতায় নাম লিখিয়েছেন ১৫ লাখের ওপরে। এর মধ্যে অবশ্য বেশিরভাগই চাকরিজীবী। করযোগ্যদের করের আওতায় আনতে গত তিন বছরে সরকার বাজেটে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে টিআইএনধারী বেড়েছে। তবে সরকার মনে করছে, ১৬ কোটি মানুষের দেশে কর দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে অন্তত এক কোটি মানুষের। যদিও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান কিংবা গবেষণা নেই। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন এইডের হিসাবে, দেশে বর্তমানে কর দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন প্রায় ৬০ লাখ মানুষ। অন্যদিকে টিআইএনধারী বাড়লেও সেই হারে প্রকৃত করদাতা বাড়ছে না। ৩৬ লাখ টিআইএনধারী হলেও গত করবর্ষে আয়কর বিবরণী দাখিল করেছেন ১৮ লাখের মতো। অর্থাত্ বাদবাকি ১৮ লাখ টিআইএনধারীর তথ্য জানতে পারেনি এনবিআর। এসব টিআইএনধারীর বিষয়েও খোঁজ নিতে শুরু করেছে এনবিআর। এ লক্ষ্যে সেকেন্ডারি সোর্সকে কাজে লাগাচ্ছে এনবিআর। এর অংশ হিসেবে বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ), বিদ্যুত্ ও গ্যাস বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ, ভূমি নিবন্ধন অফিসসহ এ ধরনের অন্যান্য সূত্র থেকে তথ্য নিচ্ছে কর বিভাগ। সিটি করপোরেশনের কাছে থাকা তথ্য ভান্ডার পরীক্ষা করে নতুন করদাতা চিহ্নিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
