ধামইরহাটে এনজিও’র নামে ১৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৬, ১৬:৩৪
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও ইউনিসেফ নামধারী একটি ভুয়া এনজিও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকা  হাতিয়ে নিয়েছে।
 
শনিবার প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী এনজিও কর্মী রোকসানা, ফারজানা ও পূর্ণিমাসহ প্রায় নয়জন কর্মী  লিখিত অভিযোগে জানান, জয়পুরহাট সদরের পশ্চিম পেচুলিয়া (বিল্লাহ) গ্রামের নাজমুল ইসলাম (৩৫) ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও ইউনিসেফের অর্থায়নের নামে এনজিও ফাঁদ পেতে তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেন। সেখানে প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের নতুন স্যানিটারি পায়খানা মাত্র ছয় হাজার টাকায় স্থাপন করার আশ্বাস দেয়া হয়। এরপর ওই এনজিওর কর্মীদের দিয়ে উপজেলার উমার, আলমপুর, খেলনা, আগ্রাদ্বিগুন, জাহানপুর, ধামইরহাট, আড়ানগর ও পত্নীতলা উপজেলার শিহাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে এসব টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত নাজমুল হোসেন তার মা-বাবার নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ওই অর্থ জমা করেছেন।
 
এনজিওর কথিত এরিয়া ম্যানেজার ভাসানী আলম রানা কখনো কখনো অডিট করতে সেখান যান বলেও অভিযোগ করেছেন কর্মীরা।
 
কথিত এনজিওর ম্যানেজার নাজমুল হোসেন (৩৫) দোষ স্বীকার করে বলেন, ‘আমি কিছু পরিবারে স্যানিটারি পায়খানা দিয়েছি, বাকী সব পরিবারে পায়খানা স্থাপন করা হবে।’
 
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের লোকজনদের কাছ থেকে টাকা আদায়কারী মাঠ কর্মীরা এখন প্রতারণার শিকার হয়ে স্বামী-সংসার ও গৃহহারা হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। শুধু তাই নয় এসব নারী কর্মীকে পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। এছাড়া অভিযুক্ত নাজমুল হোসেন উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা, স্যানিটারি ও রড-সিমেন্টের দোকান থেকে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও ইউনিসেফের নাম ব্যবহার করে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকার মালামাল বাকীতে ক্রয় করে চম্পট দিয়েছেন। ভুক্তভোগী দুই শতাধিক পরিবার, কথিত এনজিও’র নারী কর্মীরা এবং পাওনাদার ব্যবসায়ীরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তারা প্রশাসনের কাছে সুবিচার প্রার্থনা করেছেন।