সুন্দরবনের শ্যালা নদীর তাম্বুলবুনিয়া এলাকায় ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজটির উদ্ধার কাজ গতকাল রবিবার বিকাল পর্যন্ত শুরু হয়নি। প্রায় ৩০ ফুট পানির নিচে থাকা জাহাজটি উদ্ধারে কবে নাগাদ কাজ শুরু করা হবেও তাও নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি বিআইডব্লিউটিএ। তবে ডুবন্ত জাহাজটির অবস্থান নির্ণয় করে সেখানে মার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছে বিআইডব্লিউটিএ ও বন বিভাগ।
এদিকে গতকাল সকালে দুর্ঘটনা কবলিত স্থান পরিদর্শন করেছে বনবিভাগ, কোস্ট গার্ড, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বন বিভাগ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা কামাল আহমেদকে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশন অফিসার গাজী মতিয়ার রহমান, ধানসাগর স্টেশন অফিসার সুলতান মাহমুদ ও পূর্ব সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য কর্মকর্তা মেহেদি হাসান।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার ফারুকুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে জানান, কার্গো জাহাজটি বর্তমানে ৩০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। তবে কবে নাগাদ উদ্ধার কাজ শুরু করা হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি বিআইডব্লিইটিএর খুলনার উপ-পরিচালক মো. আশরাফ হোসেন।
কয়লা বোঝাই জাহাজ ডুবির ঘটনায় বনবিভাগ জাহাজ মালিকের বিরুদ্ধে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, প্রাণীজ, জলজ ও বনজ সম্পদের ক্ষতির আশঙ্কায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম।
চট্টগ্রাম থেকে প্রায় সাড়ে ১২শ টন কয়লা বোঝাই করে কার্গো জাহাজ এমভি সি হর্স-১ যশোরের নোয়াপাড়া যাচ্ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় বনের তাম্বুলবুনিয়া এলাকায় কার্গো জাহাজটির তলা ফেটে নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ওই জাহাজে থাকা সকল নাবিক সাতরিয়ে কূলে উঠে যায়। ঘটনার পর থেকে ওই জাহাজের সকল নাবিক পলাতক রয়েছে।
২০১৫ সাগের ২৮ অক্টোবর সুন্দরবন সংলগ্ন মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে তলা ফেটে ডুবে যায় কয়লা বোঝাই জাহাজ এমভি জিয়ারাজ। এটিকে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এর আগে ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর শ্যালা নদীতে ডুবে যায় ফার্নেস ওয়েল বোঝাই ট্যাংকার সাউদার্ন স্টার-৭। এছাড়া গত ২/৩ বছরের বিভিন্ন সময়ে বনের ভিতরের বিভিন্নস্থানে কয়লা, সারসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য বোঝাই বেশ কয়েকটি কার্গো জাহাজ, ভলগেটসহ নৌযান ডুবির ঘটনাও ঘটেছে। যার প্রভাব পড়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের উপর। তাই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শ্যালা নদী দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
