কে এই হামলাকারী

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:২০

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে ঢুকে গুলি চালায় ২৮ বছরের এই অস্ট্রেলিয়ান যুবক। হামলায় মারা যান তিন বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয়সহ ৪৯ জন। কিন্তু কেন মুসলিমদের বিরুদ্ধে তার এই রোষ? বন্দুকধারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘পুনরুজ্জীবিত শ্বেতাঙ্গ পরিচয়ের প্রতীক’ বলে প্রশংসা করেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন হামলাকারীকে ‘মৌলবাদী’, ‘অতি-ডানপন্থী সহিংস সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।  খবর ডয়চেভেলে ও বিবিসির

শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের আল নূর মসজিদে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে সন্ত্রাসী। তবে কেউ কেউ হামলাকারী একাধিক বলে জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা অতি ডানপন্থি ও মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাবাপন্ন। ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান যুবক যার অভিবাসী ও মুসলিমদের প্রতি বিরূপ মনোভাব ধরা পড়েছে ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া একটি ইশতেহার থেকে। ৭৪ পৃষ্ঠার দীর্ঘ ইশতেহারে বারবার সে শ্বেতবর্ণ মানুষদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলেছে। শুধু তাই নয়, কেন ইসলামপন্থি মানুষদের সাথে পশ্চিমা চিন্তার বিরোধ তাও সে বোঝাতে চেয়েছে সেখানে। যদিও যুবকের পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি স্থানীয় পুলিশ। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীও তর পরিচয় প্রকাশ করেননি। তবে ‘ব্রেন্টন টারান্ট’ নামে সামাজিক মাধ্যমে সে আগেও নানা বিদ্বেষী বক্তব্য ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেই ব্যক্তির প্রোফাইল থেকেই গোটা হামলার ঘটনাটি অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়য়। ভিডিওতেই তাকে দেখা যায় ভয়াবহ এই ঘটনাকে ‘পার্টি’র সাথে তুলনা করতে! সে নরওয়েতে ২০১১ সালে এবং সুইডেনে ২০১৭ সালের হামলা থেকে উত্সাহ পেয়েছে। দুই বছর ধরে সে হামলার পরিকল্পনা করেছিল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

কেন এই হামলা

সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা এই যুবকের ভেতর আগে থেকেই ছিল অন্ধত্ব বর্ণবাদ। নিজের ভেতরে এই বাড়তে থাকা বিদ্বেষের সাথে সাথে এমন হামলার কারণ হিসেবে ইশতেহারে সে দিয়েছে ইউরোপের উদাহরণ। ফ্রান্সে বেড়াতে এসে আশেপাশে বহু অভিবাসী মানুষদের দেখে যুবকটি আস্তে আস্তে এই হামলার জন্য নিজেকে তৈরি করে। তিন মাস আগেই টার্গেট হিসেবে ঠিক করে ক্রাইস্টচার্চ। হামলাকারী যুবকের খাতা-কলমে কোনো চরমপন্থি সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকার খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু তার ইশতেহার ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে লেখা প্রতিক্রিয়া থেকে পুলিশ ধারণা করছে যে একাধিক বর্ণবাদী, ইহুদিবিদ্বেষী ও ইসলামবিদ্বেষী ব্যক্তিদের দ্বারা সে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। উল্লেখ্য, অভিবাসীদের বহিরাগত ভাবা এই যুবকের বন্দুকের গায় হিটলারের শ্লোগান লেখা ছিল!