পশ্চিম তীর ও গাজায় গত পাঁচ মাসের সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২১শ’ ফিলিস্তিনি শিশু আহত হয়েছে।
এই ২১শ’ শিশুর মাঝে একজন খালিদ ইশতাউয়ি। পশ্চিম তীরের কুফর কাড্ডুম গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে উরুতে গুলিবিদ্ধ হয় ৫ বছরের খালিদ। বিক্ষোভের একজন সংগঠক মুরাদ বলেন, আমাদের অ্যামবুশ করা হয়েছিল। সামনে কোনো সেনা না থাকায় শিশুটি দৌড়ে আমাদের মাঝে এসে পড়েছিল।
মুরাদ বলেন, খালিদকে গুলি করা হয়েছিল গ্রামের অন্য শিশুদের ভীত সন্ত্রস্ত করার জন্য। আমরা শুধু শ্লোগান দিয়েছিলাম। সাথে সাথে গুলি শুরু হয়। আমরা ৫ বছর ধরে এই এলাকায় আন্দোলন করে আসছি। গুলির ঘটনাটি অস্বাভাবিক।
ঘটনার সময় উপস্থিত একজন সুইডিশ মানবাধিকার কর্মী বলেন, এত সামান্য ব্যাপারে পুলিশ গুলি করায় আমরা হতভম্ব হয়ে পড়ি। খালিদের চিকিত্সক জানিয়েছেন গুলিতে তার উরুর হাড় পুরোপুরি ভেঙ্গে গেছে।
খালিদ আহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর আল মাজরা আল গারিবিয়া গ্রামে ১৪ বছরের আদি কামাল গুলিবিদ্ধ হয়। তার বুকে ৫টি গুলি লেগেছিল। ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে সংঘর্ষ চলাকালে তার ওপর গুলি করা হয়েছিল। তাদের দাবি, প্রায় ২০ জন আন্দোলনকারী সেনাদের দিকে পাথর ছুঁড়ছিল।
ডিসিআইপি এক রিপোর্টে বলেছে গত ছয় মাসে শত শত ফিলিস্তিনি শিশু আহত হওয়ার পাশাপাশি ৪০ জন শিশু নিহত হয়েছে। ইসরাইলের সেনারা বলছে তাদের ওপর হামলার সময় এই শিশুরা নিহত হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিচার বহির্ভূত হত্যার অভিযোগ এনেছে। অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা প্রকল্পের পরিচালক ফিলিপ লুথার বলেন, ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে সন্দেহ হলেই গুলি চালানোর প্রবণতা বাড়ছে। ঝুঁকিটি সত্যি কিনা তা নিশ্চিত না হয়েই তারা গুলি চালাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা
