জো ক স

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৯, ১৯:১১

সত্যজিত্ বিশ্বাস

সবচেয়ে বড় দ্বীপ

 

শিক্ষক :বল তো দ্বীপ কাকে বলে?

ছাত্র :চারদিক থেকে পানি বেষ্টিত ভুখণ্ডকে দ্বীপ বলে।

শিক্ষক :ভেরি গুড। আচ্ছা, এবার বল তো, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বীপ কোনটি?

ছাত্র :ঢাকা।

শিক্ষক :এটা কী বললি? ঢাকা কি দ্বীপ?    

ছাত্র :ঠিকই বলি স্যার। শুধু বর্ষাকালটা আসতে দেন, হাতে কলমে প্রমাণ দিমু।

মেইড ইন জিনজিরা

 

এক মুরগি দুটো ডিম পেড়ে খাবারের সন্ধানে বের হলো। যখন ফিরে এলো, দেখে তার বাসায় দুটোর জায়গায় তিনটা ডিম। কিছু বুঝতে না পেরে হতভম্ব হয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে দিল মুরগি। তার বিলাপ শুনে ছুটে এলো মোরগ। সব শুনে মোরগ ডিমগুলোর সামনে গিয়ে গলা ফাটিয়ে বলল, ‘ওরে তোদের মধ্যে কোনটা মেইড ইন জিনজিরা, জবাব দে!’

 

দুজন থেকে তিনজন

মেয়ে (টেলিফোনে) :মা, আমার জীবন শেষ।

মা :কেন, কী হয়েছে?

মেয়ে :আমি আর তোমাদের জামাইয়ের সংসার করব না।

মা :আরে বাবা, কী হয়েছে বলবি তো?

মেয়ে :কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের সংসারে আরেকজন আসছে। আমরা দুজন থেকে তিনজন হতে যাচ্ছি।

মা :এ তো খুবই সুখবর। আল্ট্রাসোনোগ্রাম করিয়েছিস? কে আসছে নাতি নাকি নাতনি?

মেয়ে :সতীন।

 

কে বেশি যোগ্য

সামনে উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষ্যে দুই প্রার্থীর কথোপকথন-

প্রথম প্রার্থী :আমি যোগ্য প্রার্থী।

দ্বিতীয় প্রার্থী :আমি আপনার চেয়েও যোগ্য প্রার্থী। 

প্রথম প্রার্থী :আপনি তো লেখাপড়াই করেন নাই। যোগ্য কোনদিক থেকে? 

দ্বিতীয় প্রার্থী :আর আপনি মনে হয় বিদ্যার জাহাজ?

প্রথম প্রার্থী :কী এত বড় কথা? ক্লাস ফাইভে আমার রোল ছিল আটান্ন, জানেন সেটা? 

দ্বিতীয় প্রার্থী :আর আমার রোল ছিল যে নবান্ন, আপনি জানেন?  

প্রথম প্রার্থী :ধুর মিয়া, নবান্ন কারও রোল হয়?

দ্বিতীয় প্রার্থী :আপনার রোল আটার অন্ন হতে পারলে আমার রোল নবান্ন হতে পারবে না, কেন?

 

এটা আসলে কিসের অফিস?

ছেলে :আচ্ছা বাবা, আমরা এখানে এসেছি কেন?

বাবা :এটা হলো পাসপোর্ট অফিস। আমরা এখানে এসেছি পাসপোর্ট করতে।

ছেলে :তাহলে, মা যে বলল...

বাবা :কী বলেছে তোর মা?

ছেলে :এটা বলে ভোগান্তির অফিস। আমরা এসেছি ভোগান্তি পোহাতে।

 

পাসপোর্ট অফিসে ধাপে ধাপে ভোগান্তি

গার্ড :কী ব্যাপার, আপনি সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কী করেন?

দর্শনার্থী :না, মানে সিঁড়ি গুনি।

গার্ড :সিঁড়ি গোনেন? এখানে পাসপোর্ট করতে এসেছেন নাকি সিঁড়ি গুনতে?

দর্শনার্থী :দুটোই।  

গার্ড :দুটোই মানে?

দর্শনার্থী :শুনেছি, পাসপোর্ট অফিসের ধাপে ধাপে ভোগান্তি। তাই কতগুলো ধাপ আগে সেটা গুনছি।

 

এই চা, সেই চা

প্রথম বন্ধু :একটা ব্যাপার খেয়াল করেছিস? ইলেকশন এলেই চায়ের কদর বেড়ে যায়। কেন বল তো?

দ্বিতীয় বন্ধু :এটাও বুঝলি না? ইলেকশনের প্রার্থী আর ভোটারের মনের কথা তো ওই একটাই। সেটা হলো ‘চা’।

প্রথম বন্ধু :কেমন করে?

দ্বিতীয় বন্ধু :ইলেকশনের প্রার্থী, ভোটার দেখলে মনে মনে নিজেকে কী বলে? ‘ভোট চা, ভোট চা’। আবার ভোটার ইলেকশনের প্রার্থী দেখলে মনে মনে নিজেকে কী বলে? ‘এই চান্সে যদি কিছু আদায় করা যায়, অর্থাত্ এটা চা, ওটা চা।’ ইলেকশন মানেই এই চা, সেই চা। চা আর চা।

 

উপকার করলে পুলিশে ধরে—এটা কী ঠিক?

বিচারক :কী ব্যাপার, আপনাকে ধরে এনেছে কেন?

দালাল :সেটাই তো বুঝতে পারছি না, স্যার।

বিচারক :যখন পুলিশ ধরে আনে, তখন আপনি কী করেছিলেন?

দালাল :মানুষের উপকার।

বিচারক :কী সব বলছেন? মানুষের উপকার করলে পুলিশ ধরবে কেন?

দালাল :বিশ্বাস করুন স্যার, একজনকে পাসপোর্ট করার ব্যাপারে সাহায্য করে উপকার করছিলাম, ঠিক তখনি পুলিশ ধরে নিয়ে এলো। কারও উপকার করলে পুলিশে ধরে—এটা কি ঠিক?

 

এরাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ

শিক্ষক :তোমরা কি জানো, আমাদের দেশে প্রতি ১০ সেকেন্ডে একজন মহিলা একটা করে বাচ্চা প্রসব করে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের দেশের জনসংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকবে, কল্পনা করতে পার? এটা কী আশঙ্কাজনক ব্যাপার না?

ছাত্ররা (স্বমস্বরে) :অবশ্যই স্যার। 

শিক্ষক :তাহলে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আমাদের এখন কী করা উচিত?

ছাত্র :স্যার, আমাদের উচিত, ওই মহিলা ও তার স্বামীকে খুঁজে বের করে আলাদা করে দেওয়া।

 

কালজয়ী প্রতিভা

প্রথম বন্ধু :একটা সময়ে বাংলা সিনেমায় কী কালজয়ী অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই না অভিনয় করত!

দ্বিতীয় বন্ধু :তা, যা বলেছিস।

প্রথম বন্ধু :দিন দিন সব হারিয়ে গেল। 

দ্বিতীয় বন্ধু :এটা আবার ঠিক বললি না। কেউ হারায়নি।

প্রথম বন্ধু :নতুনদের মধ্যে সেই প্রতিভা আজ কোথায়?

দ্বিতীয় বন্ধু :কেন, সেই প্রতিভা তো এখন ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে ঘরে।

প্রথম বন্ধু :ঘরে ঘরে মানে?

দ্বিতীয় বন্ধু :জি বাংলা দেখে দেখে এখন ঘরে ঘরে কালজয়ী অভিনেতা-অভিনেত্রী।    

 

তাহলে আর সমস্যা কী?

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী :আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুন, কথা দিচ্ছি আপনাদেরকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবই করব।  

উপস্থিত সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ভোটার :কালে কালে তো আর কম দেখলাম না বাবা। যে নির্বাচনে দাঁড়ায় সেই এই একই কথা বলে। নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার পর আর কেউ কথা রাখে না।   

নির্বাচন পদপ্রার্থী :তাহলে আর আমাকে ভোট দিতে সমস্যা কী?

 

কোনটা সিনেমা?

এক ভদ্রলোক সিনেমা হলের ম্যানেজারকে বলল, ‘দেখুন, আমার কাছে খবর আছে, আমার স্ত্রীকে নিয়ে অন্য একজন এ হলে বসে সিনেমা দেখছে। তাকে ৫ মিনিটের মধ্যে সিনেমা হল থেকে বের করে দিন নাহলে কিন্তু আমি পুলিশ নিয়ে আসব।’

হল ম্যানেজার সিনেমা বন্ধ করে সিনেমার পর্দার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, ‘এই হাউসফুল সিনেমা দর্শকদের বিরক্ত করার জন্য আমি অত্যন্ত দুঃখিত। আপনাদের মধ্যে কোনো এক মহিলাকে অনুরোধ করছি, যে তার স্বামী নয় এমন কারও সাথে বসে সিনেমা দেখছেন। সে প্লিজ বের হয়ে যান নাহলে আপনার স্বামী পুলিশ নিয়ে ভিতরে ঢুকবে। শুধু আপনার জন্য সবার সিনেমা দেখা নষ্ট হোক, এটা নিশ্চয়ই চাইবেন না।’

এক মিনিটের মধ্যে পুরো সিনেমা হল খালি।

 

খুঁজতে এসেছেন না কি হারাতে?

হন্তদন্ত হয়ে জাদুঘরে ঢুকলেন এক ভদ্রলোক। ওখানের এক গাইডের কাছে গিয়ে বললেন, এই যে ভাই শুনছেন, আমার স্ত্রী হারিয়ে গেছে।

গাইড :তা, আমি কী করব? থানায় যান, হাসপাতালে যান...

ভদ্রলোক :তারপর যদি ওখানে গিয়ে পেয়ে যাই, তখন কী হবে?

গাইড :তাহলে এখানে এসেছেন কেন?

ভদ্রলোক :না মানে নিজেকে তো বোঝাতে পারব, অনেক খুঁজেছি।