মাযহারুল ইসলাম অনিক
আমাদের এলাকার মামুন ভাই সব সময় নানা চিন্তা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। চিন্তারা যেন তার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ইচ্ছা করলেই যেকোনো সময় নামিয়ে নিয়ে আসতে পারে তাদের। এই তো সেদিনেরই একটা চিন্তা আজ শেয়ার করছি আপনাদের সঙ্গে।
সারারাত ধরে প্রবল বর্ষা। রাস্তাঘাট বাড়িঘর সব পানিতে থৈ থৈ করছে। কেউই করতে পারছে না তাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো। বর্ষার পানির মতো থমকে গেছে সবকিছু। কিন্তু থমকে নেই মামুন ভাইয়ের মাথা। তার মাথায় অজস্র বুদ্ধি দেদারসে চলে আসছে। হাজারো বুদ্ধির মাঝে সে বেছে নিল একটিকে। যেখানে সবাই ঘরের পানি বের করতে ব্যস্ত সেখানে মামুন ভাই পানিগুলোকে জোরেশোরে আটকে রাখছে, কারণটা নিশ্চয় আপনারা বুঝতে পারছেন? হ্যাঁ, তিনি মাছ করবেন তো যথারীতি তিনি সকলের মতামত না থাকা শর্তেও একগাদা ভালো প্রজাতির মাছ কিনে আনল। আর বেশ ভালোভাবে তাদের ছেড়ে দিল ঘরের মাঝে আটকে নোংরা পানির মধ্যে। চকচকে দাঁত নিয়ে বেশ হাসিখুশিভাবেই হেঁটেহুটে বেড়াচ্ছে মামুন ভাই। কারণ অন্যেরা যতই থাক দুঃখের মাঝে, মামুন ভাই তো সে দুঃখের পানিতেই ভালো প্রজাতির মাছ চাষ করছে। এ ভাবনা ভাবছে আর উড়ে চলেছে স্বপ্নের দেশে। এভাবেই দু-তিন দিন গেল, তারপর সবার ঘর থেকে বৃষ্টির জমা পানিগুলোও চলে গেলে। শুধুই রয়ে গেল মামুন ভাইয়ের ঘরে। সাথে সাথে তার মুখের হাসিও ম্লান হচ্ছে না কারণ মাছ বেচবে টাকা পাবে। তো এ আশায় আরও তিন চার দিন পার হলো। আর প্রতিদিনই প্রায় কিছু কিছু মাছ মরতে থাকে আর বের হয় পচা দুর্গন্ধ। তাতেও মামুন ভাই কিছু মনে করে না কারণ অন্য মাছগুলো তো আছে। আস্তে আস্তে সেগুলোও পচা পানিতে মরতে লাগল। আর দুর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে প্রতিবেশীরাও দিতে থাকেন নানা গাল। শেষমেশ তার বুদ্ধিতে পড়ল ভাটা। মাছের সঙ্গে নষ্ট হলো অনেক টাকা।
দ্বাদশ শ্রেণি, ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপাল কলেজ, যশোর
