পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। যেটুকু পানি পাওয়া যাচ্ছে তাও দুর্গন্ধযুক্ত। এছাড়া এই পানি চোখে দিলে চোখ জ্বালা করে। ফুটিয়েও পানি থেকে দুর্গন্ধ দূর করা যাচ্ছে না। ওয়াসার পানির সাথে ময়লা, পয়ঃবর্জ মিশে পানিকে দূষিত করে তুলেছে। দূষিত পানি পান করার ফলে নানা পানি বাহিত রোগ বিশেষ করে ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ পানি সংকটের জন্য বিদ্যুত্ সংকটকে দায়ী করলেও দূষিত পানি কিংবা পানির সরবরাহ নিয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারছে না।
যেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট সেগুলো হচ্ছে মানিকনগর, গোপীবাগ, অভয় দাস লেন, টিকাটুলী, কেএম দাস লেন, স্বামীবাগ, ওয়ারী, শশী মোহন বসাক লেন ,বনগ্রাম ও মৈশুন্ডি । এছাড়া খিলগাঁও, বাসাবো, তিলপাপাড়া, গোড়ান, সিপাহীবাগ, মেরাদিয়া প্রভৃতি এলাকায়ও পানিতে ময়লা এবং দুর্গন্ধ দেখা দিয়েছে। পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াসা শতকরা ১৩ শতাংশ পানি নদী থেকে সংগ্রহ করে থাকে। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা থেকে সংগ্রহ করা পানি সঠিকভাবে বিশুদ্ধ করা হয় না। এছাড়া পানি বিশুদ্ধ করতে অনেক সময় ওয়াসা অতিমাত্রায় কেমিক্যাল ব্যবহার করে। যার কারণে পানি দুর্গন্ধযুক্ত হয়।
দুর্গন্ধযুক্ত পানির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ইত্তেফাককে বলেন, সঠিকভাবেই পানি বিশুদ্ধকরণ করা হয়। প্রতিনিয়ত ওয়াসার লাইন থেকে পানি চুরি হচ্ছে। মেইন লাইন ছিদ্র করে এটা করার কারণে পানিতে ময়লা প্রবেশ করছে। ওয়াসার কিছু পুরাতন লাইন থাকার কারণেও এটা হতে পারে। এছাড়া বাসা-বাড়িতে যে ট্যাংকি রয়েছে তা দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করার কারণে পানি দুর্গন্ধযুক্ত হতে পারে।
সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পিছু ছাড়ছে না পানি সমস্যা। নিত্য এ সমস্যার সাথে যোগ হয়েছে দুর্গন্ধ। ময়লা ও ফেনাযুক্ত ঘন কালো,ঘোলাটে পানির সাথে কেঁচোসহ নানা পোকা মাকড় আসছে । একদিকে সংকট তার উপর দুর্গন্ধযুক্ত পানি তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। পানি সংকটকে পুঁজি করে নকল ও নিম্নমানের বোতল এবং জারজাত পানিতে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ নকল ও ভেজাল পানি বোতলজাতকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে। জরিমানাসহ বাতিল করা হয়েছে একাধিক পানি কোম্পানীর রেজিস্ট্রেশন। নকল ও ভেজাল পানি পান করে রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে।
অন্যদিকে লাভবান হচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র। তারা রাজধানীতে প্রতিদিন নকল ও ভেজাল পানি সরবরাহ করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
পানি নিয়ে ক্রমেই পুরান ঢাকাবাসীর দুর্ভোগ- দুর্গতি বাড়ছে। পুরান ঢাকার মানিকনগর, গোপীবাগ,অভয় দাস লেন,টিকাটুলী,কেএম দাস লেন,স্বামীবাগ, ওয়ারী, শশী মোহন বসাক লেন ,বনগ্রাম ও মৈশুন্ডি এলাকায় গত তিন মাস যাবত্ পানিতে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। উল্লেখিত এলাকার বাসিন্দারা পানি ব্যবহার করতে পারছেন না। যতটুকু পানি পাওয়া যাচ্ছে তা ফুটিয়েও পান করা যাচ্ছে না। ফুটানোর পর পাত্রের তলায় কালো আঠালো গাদ জমা হচ্ছে। এছাড়া গত এক মাস যাবত্ এসব এলাকায় পানি সংকট চলছে।
গোপীবাগের গৃহবধূ নাজমা আক্তার ইত্তেফাককে বলেন, গরমে পানি সংকট আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। ওয়াসার লাইনে আসা পানিতে তীব্র দুর্গন্ধ। কালচে দুর্গন্ধযুক্ত পানি মুখে তোলা যাচ্ছে না। ফুটানোর পর পানির পাত্রের তলায় কাদার ন্যায় গাদ জমা হচ্ছে। বিশুদ্ধ না হওয়ায় পানি পান করা সম্ভব হচ্ছে না।
মানিকনগরের বাসিন্দা চঞ্চল মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, গত এক মাস যাবত্ এলাকায় পানি সংকট বিরাজ করছে। ওয়াসার লাইনে যতটুকু পানি আসে তাতেও দুর্গন্ধ। কালচে ফ্যানাযুক্ত পানি ফুটিয়েও পান করা যাচ্ছে না। বিষয়টি একাধিকবার ওয়াসাকে অবহিত করা হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
